মৃত মাকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে সৌরভ খুনে প্রেমিককে রাজি করান মুস্কান! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

মিরাটের ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত গভীরে যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের ছক নভেম্বর থেকেই কষতে শুরু করেছিলেন স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি। কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটাবেন, কীভাবে প্রেমিক সাহিলকে রাজি করাবেন— এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা চলছিল।

তদন্তকারীদের মতে, মুসকান সাহিলকে বিশ্বাস করানোর জন্য স্ন্যাপচ্যাটে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে বারবার মেসেজ পাঠাতেন। সেখানে তিনি দাবি করতেন, সৌরভের মৃত্যু ‘অপরিহার্য’। আরও ভয়ংকর বিষয়, সাহিলের মৃত মায়ের নাম করে তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেন মুসকান। তিনি বলেন, “তোমার মায়ের আত্মা চাইছেন সৌরভ মারা যাক।” এতে সাহিল ধীরে ধীরে মুসকানের কথায় বিশ্বাস রাখতে শুরু করেন।

মুসকান আরও একটি মিথ্যা বলেন সাহিলকে— সৌরভ মার্চেন্ট নেভি অফিসার নন, বরং লন্ডনের একটি বেকারিতে কাজ করেন। এতে সাহিল আরও নিশ্চিত হন যে, সৌরভকে সরিয়ে দিলে তাঁদের ভবিষ্যতে আর কোনও বাধা থাকবে না।

সাহিলকে পুরোপুরি বিশ্বাস করানোর পর, শুরু হয় হত্যার প্রস্তুতি। তদন্তে জানা গেছে—বাজার থেকে মাংস কাটার ছুরি কেনা হয়।একটি ২২০ লিটারের জল রাখার ড্রাম এবং ৫০ কেজি সিমেন্ট সংগ্রহ করা হয়।মুসকান অনিদ্রার বাহানা করে প্রেসক্রিপশনে ঘুমের ওষুধ লিখিয়ে আনেন।

৪ মার্চ, সৌরভ একমাত্র মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার পর, খাবারে মিশিয়ে দেওয়া হয় বেশি মাত্রার ঘুমের ওষুধ। এর আগে নভেম্বরে একই চেষ্টা করেছিলেন মুসকান, কিন্তু সফল হননি। এবার ডোজ বাড়ানো হয়।

সৌরভ অচৈতন্য হয়ে পড়তেই, মুসকান একের পর এক ছুরির আঘাত করেন। কিছুক্ষণ পর প্রেমিক সাহিল এসে মাংস কাটার ছুরি দিয়ে সৌরভের মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দেন!

দেহাংশ কেটে নীল ড্রামের ভেতর ঢোকানো হয়।সিমেন্ট ঢেলে ড্রামের মুখ বন্ধ করা হয়, যাতে কোনওভাবে দেহের অস্তিত্ব কেউ জানতে না পারে।সন্দেহ এড়াতে, তারা হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে চলে যায়।ফিরে এসে ড্রামটি ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যায় দু’জন।

পুলিশ ইতিমধ্যে মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত অপরাধ।

এখন প্রশ্ন উঠছে, একজন স্ত্রী কীভাবে নিজের স্বামীকে খুন করতে পারেন? কীভাবে ভালোবাসার নামে এমন ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হল? তদন্ত চলতে থাকলেও, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।