সরকারি খরচ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের! বন্ধ হতে পারে মার্কিন শিক্ষা দফতর

দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সরাসরি কোপ পড়ল শিক্ষা খাতে। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ, ২০২৫) তিনি একটি নতুন এক্সিকিউটিভ অর্ডার-এ স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রীয় শিক্ষা দফতর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি প্রশাসনের খোলনলচে বদল করতে চান। সেই লক্ষ্যেই এবার শিক্ষা দফতর বিলোপের পথে হাঁটলেন তিনি। যদিও বিষয়টি খুবই জটিল, তবু ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা দফতর তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল ট্রাম্পের। তবে তখন কংগ্রেস কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন শিক্ষা বিভাগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে। এই বিভাগে ৪,২০০-এর বেশি কর্মী কাজ করেন এবং এর সাম্প্রতিক বাজেট ছিল ২৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা দফতর বন্ধ হলে মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে কে-১২ স্কুল এবং কলেজগুলির টিউশন ফি বাবদ যে সরকারি সহায়তা দেওয়া হত, তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
ট্রাম্পের দাবি, সরকারের খরচ কমানো জরুরি। তাই সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা হ্রাস করতেই হবে। শিক্ষা দফতর বন্ধ হলে বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারাতে পারেন, কিন্তু ট্রাম্পের যুক্তি, এতে সরকারি ব্যয় কমবে এবং বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
শুধু শিক্ষা নয়, ইউএসএইড-এর মতো উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলিও বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন ও বিরোধিতার মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এক জিনিস পরিষ্কার, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে প্রশাসনিক সংস্কারের নামে ট্রাম্প যে ‘বড়সড় কিছু’ করতে চলেছেন, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই।