প্রায় ১৫ মাস পর স্থায়ী উপাচার্য পেল বিশ্বভারতী, , জেনেনিন কে এই প্রবীর কুমার ঘোষ?

দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে স্থায়ী উপাচার্য পেল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানী প্রবীর কুমার ঘোষ। গত বছরের অগাস্ট থেকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অধ্যাপক বিনয় কুমার সরেন। প্রবীর কুমার ঘোষ এখন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রবীর ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। প্রায় চার দশক পর তিনি তাঁর পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপাচার্য হিসেবে ফিরে আসছেন।

প্রবীর কুমার ঘোষের জীবনপথ

৬৩ বছর বয়সি প্রবীর কুমার ঘোষের জন্ম মুর্শিদাবাদের কুমারপুরে। তিনি ভগীরথপুর হাইস্কুল এবং ডোমকল বিটি হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীকালে উত্তরাখণ্ডের জিবি পন্ত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আইসিএআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটিক স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের ডিরেক্টর ছিলেন। এছাড়াও তিনি ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সয়েল সায়েন্সেস এবং কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ডালস রিসার্চ-এ গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।

দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকাল

২০২৩ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে স্থায়ী উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে বিশ্বভারতীতে কোনও স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন না। প্রথমে সঞ্জয় কুমার মালিক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তাঁর স্থলে আসেন অরবিন্দ মণ্ডল এবং অগাস্টে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন বিনয় কুমার সরেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যদের অধীনে পরিচালিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক নজির

প্রবীর কুমার ঘোষ ঠাকুর পরিবারের বাইরে প্রথম বিশ্বভারতী প্রাক্তন ছাত্র যিনি উপাচার্য হিসেবে ফিরে আসছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। টেলিফোনে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, “আমি আমার নিয়োগের খবর পেয়েছি। শীঘ্রই শান্তিনিকেতনে পৌঁছে যাব। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিস্তারিতভাবে কথা বলব।”

প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়া

প্রবীর কুমার ঘোষের নিয়োগের খবরে বিশ্বভারতী সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপাচার্যের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে বিশ্বভারতীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এই প্রতিষ্ঠানকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শান্তিনিকেতনে তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মীরা।