2026-এ ভবানীপুরে মমতা VS শুভেন্দু লড়াই?-গুঞ্জন নিয়ে বিরোধীদলনেতার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

আগামী বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষ হতে চলেছে। তার আগে আজ বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই সম্ভাব্য মুখোমুখি উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হবেন শুভেন্দু অধিকারী? সম্প্রতি শুভেন্দুর কিছু বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত মিললেও, মঙ্গলবার তিনি নিজের অবস্থানে নতুন মোড় এনেছেন।
শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে হেরেছে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে। আবার ভবানীপুরেও ছাব্বিশ সালে বিজেপির প্রার্থীকে দিয়ে ওঁকে হারাব। উনি কম্পার্টমেন্টাল চিফ মিনিস্টার হিসেবে রয়েছেন। এরপর ডাবল কম্পার্টমেন্টাল নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাবেন বাংলায় এক্স চিফ মিনিস্টার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” এই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নিজে ভবানীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, বরং বিজেপির অন্য কোনও প্রার্থীর মাধ্যমে মমতাকে পরাজিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
পূর্বের চ্যালেঞ্জ ও জল্পনা
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে ভবানীপুরে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ভবানীপুরেও ওঁকে হারাব।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছিলেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের পর শুভেন্দু জয়ী হয়েছিলেন। ফলে অনেকেই আশা করছিলেন, ভবানীপুরে মমতার ঘাঁটিতে তিনি আবারও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়বেন। কিন্তু মঙ্গলবারের বক্তব্যে তিনি সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন।
শুভেন্দুর কৌশল
বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “বিজেপির প্রার্থী দিয়ে ওঁকে ভবানীপুরে হারাব। এখন কম্পার্টমেন্টাল আছেন, এরপর ডবল কম্পার্টমেন্টাল তৃণমূল নেত্রী হবেন।” এই বক্তব্যে তিনি নিজের পরিবর্তে দলের অন্য প্রার্থীর উপর ভরসা রাখার কথা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি শুভেন্দুর একটি কৌশলগত পিছু হটার ইঙ্গিত হতে পারে। ভবানীপুরে মমতার শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কের কথা বিবেচনা করে তিনি সরাসরি লড়াইয়ের ঝুঁকি নিতে চাননি বলেও মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২১-এ নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। এই কেন্দ্রটি তাঁর রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, শুভেন্দু নন্দীগ্রামে জয়ের পর থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন। তবে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ভবানীপুরে সরাসরি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত রাজনৈতিক হিসেবে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আগামীর সম্ভাবনা
আজ বিধানসভায় মমতা ও শুভেন্দুর উপস্থিতি ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে তাঁদের রাজনৈতিক সমীকরণের একটি ঝলক দিতে পারে। শুভেন্দুর এই নতুন অবস্থান তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তৃণমূলের তরফে এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না এলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দুর এই কৌশল বিজেপির জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে।
ছাব্বিশের ভোটের আগে ভবানীপুর যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে শুভেন্দু নিজে ময়দানে না নেমে অন্য প্রার্থীর উপর ভরসা রাখলে, মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির কৌশল কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।