এটা কী ভোটের সমীকরণ? এই প্রশ্ন তুলতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর

রমজানের পবিত্র মাসে ফুরফুরা শরীফে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই উপস্থিতি শুধুই সৌজন্য, নাকি ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ? এই প্রশ্ন তুলতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
“এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভোটের রাজনীতির সঙ্গে মেলাবেন না”
ইফতারের পর সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন, লোকসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর রেখে কি এই উপস্থিতি? এর উত্তরে চটে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“এটা একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এখানে রাজনীতি টেনে আনবেন না। আমি সব ধর্মের অনুষ্ঠানে যাই, দুর্গাপুজোতেও যাই, কালীপুজোতেও যাই, গুরুনানকের জন্মদিনেও যাই। তাহলে সেটাও কি ভোটের রাজনীতি?”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে তৃণমূল?
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের সমর্থন আরও মজবুত করতেই মমতার এই ফুরফুরা শরীফ সফর। রাজ্যের ৩০-৩৫% ভোটার মুসলিম সম্প্রদায়ের, এবং এই ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের অন্যতম শক্তি। ২০১১ সাল থেকে এই সমর্থন ধরে রেখেছে তৃণমূল, তবে ইদানীং রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ আব্বাস সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন আইএসএফ-এর দিকে ঝুঁকছে বলে ধারণা।
ইফতারে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“বাংলা সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকে, এটা আমাদের সংস্কৃতি। রমজান শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, এটা মানবতার উৎসব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি গরিব মানুষের জন্য কাজ করি, সংখ্যালঘুদের জন্য অনেক প্রকল্প এনেছি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ দিয়েছি। এটা রাজনীতি নয়, এটা আমার দায়িত্ব।”
ফুরফুরা শরীফের গুরুত্ব
ফুরফুরা শরীফ বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্র। এখানে প্রতি বছর ইফতার অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের দেখা যায়। ফুরফুরা শরীফের নেতৃত্বের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে এবার ভোটের আগে এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিরোধীদের কটাক্ষ
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন,
“ভোটের সময় এলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের কাছে যান। হিন্দুদের জন্য কোনও কিছু করেন না। এটা তোষণের রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়।”
যদিও তৃণমূলের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করেন, বিরোধীরা শুধু বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়।”
শেষ কথা
লোকসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান সরগরম। মুখ্যমন্ত্রীর এই ইফতার উপস্থিতি রাজনীতির অংশ হোক বা না হোক, তা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রাখতে চান, তা স্পষ্ট।