টার্গেট করেই চালিয়েছিল গুলি! পাকিস্তানে রহস্যজনক ভাবে খুন ইসলামি প্রচারক, তদন্তে পুলিশ

পাকিস্তানের বালোচিস্তানের কোয়েটা বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলায় নিহত হলেন বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক মুফতি আবদুল বাকি নুরজাই। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে, যখন কয়েকজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী বিমানবন্দরে মুফতিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মুফতি আবদুল বাকি নুরজাই পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। ঘটনার পর আততায়ীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের আগে, ১৫ মার্চ পাকিস্তানের পঞ্জাবের দিনা এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু কাতালকে। জানা গিয়েছে, আবু কাতাল লস্করের অপারেশনাল কমান্ডার পদে ছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দিনা এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত হামলাকারীরা আবু কাতালকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। আবু কাতাল জম্মু ও কাশ্মীরে নিরীহ মানুষের উপর হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে ইসলাম প্রচারক ও জঙ্গি নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণেই এই ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বালোচিস্তান ও পঞ্জাবে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে।
মুফতি নুরজাই হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও একবার প্রকাশ্যে এল। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আততায়ীদের চিহ্নিত করতে তৎপর হলেও, এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে নিরাপত্তার অভাব ও সন্ত্রাসবাদীদের বাড়বাড়ন্তের কারণে দেশজুড়ে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।