পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে, জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধ করলেন বাবা

প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করায় উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক যুবতীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করল তাঁর পরিবার। ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিয়ে করার কারণে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে আহত এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা মেয়েকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
গত ৯ মার্চ ওই যুবতী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং পরে বিয়ে করেন। এই সিদ্ধান্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়াই নেওয়া হয়। পরিবারের তরফে পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ যুবতীকে উদ্ধার করে। তবে, সাবালিকা হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাঁকে তাঁর ইচ্ছানুসারে স্বামীর কাছে পাঠানো হয়। মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে পরিবার তাঁকে ভুলে যাওয়ার জন্য এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শ্রাদ্ধানুষ্ঠান
পরিবার এদিন হিন্দু রীতি মেনে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে। পুরোহিত মন্ত্র পড়েন, মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমাদের মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে। এতে আমাদের সম্মান নষ্ট হয়েছে। তাই তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। গ্রামে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই বার্তা দিতে এই অনুষ্ঠান করা হয়েছে।”
গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবার ভবিষ্যতে গ্রামে এ ধরনের ঘটনা রোধ করতে চায়। তবে এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটাকে ‘প্রতিবাদের ভাষা’ হিসেবে দেখলেও, অনেকে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
পটভূমি
পরিবারের অমতে প্রেমের বিয়ে গ্রামীণ সমাজে প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের এই চরম সিদ্ধান্ত সমাজে প্রচলিত রীতি ও চাপের প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে এই ঘটনা নিয়ে আইনি কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।