২০ গুলিতে ঝাঁঝরা শরীর, পাক সেনা নীরব দর্শক, যেভাবে খতম হল জঙ্গি আবু কতাল

শনিবার রাতে পাকিস্তানের ঝিলাম জেলার দিনা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি আবু কাতাল নিহত হয়েছেন। এই হামলায় তার এক নিরাপত্তারক্ষীও প্রাণ হারিয়েছেন, এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সংঘটিত হয়েছে।

হামলার বিস্তারিত
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে আবু কাতাল লস্কর-ই-তৈবার সদস্যদের সঙ্গে একটি কনভয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাঁর গাড়ির ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে আবু কাতাল ও তাঁর এক নিরাপত্তারক্ষী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত আরেকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাক সেনার নিষ্ক্রিয়তা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা হামলা ঠেকাতে কোনও তৎপরতা দেখাননি। আবু কাতালের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই হামলা প্রশ্ন তুলেছে পাক সেনার ভূমিকা নিয়ে।

আবু কাতাল কে ছিলেন?
আবু কাতালের আসল নাম জিয়া উর রহমান, ওরফে কাতাল সিন্ধি। তিনি ছিলেন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষস্থানীয় হ্যান্ডলারদের একজন এবং ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চার্জশিট জারি করেছিল।

রাজৌরি ও রিয়াসি হামলায় যোগসূত্র
২০২৩ সালে রাজৌরির ধাঙ্গরি গ্রামে জঙ্গি হামলায় সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার পেছনে আবু কাতালের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। একই বছর রিয়াসিতে তীর্থযাত্রীদের বাসে হামলার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। এনআইএ-র তদন্তে এই হামলাগুলোতে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জঙ্গিদের জন্য লজিস্টিক সহায়তা
আবু কাতাল শুধু হামলার পরিকল্পনাকারীই ছিলেন না, তিনি পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের জন্য প্রশিক্ষণ, আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থাও করতেন। রাজৌরি ও রিয়াসি হামলার পর তিনি ধাঙ্গরিতে জঙ্গিদের তিন মাস ধরে খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।

পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। পাক সরকারের নীরবতা এবং সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আবু কাতালের মৃত্যু ভারতের জন্য একটি বড় সাফল্য হলেও, পাকিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।