বিদেশে চাকরির টোপ, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে ভারতে ফেরানো হল ৫৪৯ জনকে

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া শত শত ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে ২৬৬ জন ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়। এর আগে সোমবার আরও ২৮৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানে থাইল্যান্ড ও মায়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, “ভারত সরকার ২৬৬ জন ভারতীয়কে বায়ুসেনার বিমানে নিরাপদে দেশে ফিরিয়েছে। সোমবারও ২৮৩ জনকে ফেরানো হয়েছিল। মায়ানমার ও থাইল্যান্ড সরকারের সঙ্গে অবিরাম যোগাযোগের মাধ্যমে এই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সরকার ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরানোর জন্য সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কীভাবে ফাঁদে পড়েছিলেন ভারতীয়রা?
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক ভারতীয়কে মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাঁদের চাকরির বদলে সাইবার অপরাধের জগতে ঠেলে দেওয়া হয়। মায়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তে অবস্থিত স্ক্যাম সেন্টারে তাঁদের জোর করে প্রতারণামূলক কাজে লাগানো হচ্ছিল। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই প্রতারণার শিকারদের মধ্যে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ফাঁদে পড়েছিলেন।

উদ্ধারে সরকারের প্রচেষ্টা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাগাল্যান্ড ও মায়ানমারে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর। এই কাজে ভারতীয় দূতাবাসগুলি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের প্রতারণা থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে তাদের কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। সোমবার ও মঙ্গলবার মোট ৫৪৯ জনকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানো হয়েছে, যা এই প্রচেষ্টার বড় সাফল্য।

সতর্কতা জারি
বিদেশ মন্ত্রক আগেও এই ধরনের চাকরির ফাঁদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। বিদেশে চাকরির জন্য যাওয়ার আগে কোম্পানি ও নিয়োগকারী এজেন্টদের সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া জরুরি।” কেন্দ্র নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, বিদেশি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে নিতে।

জনমনে উদ্বেগ
এই ঘটনা দেশে বেকারত্ব ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রতারণার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরির প্রলোভনে বিদেশে যাওয়া অনেকেই অজান্তে অপরাধের জগতে জড়িয়ে পড়ছেন। সরকারের এই উদ্ধার অভিযান স্বস্তি এনে দিলেও, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।

আপাতত, উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রতারণার জাল থেকে বাকিদের উদ্ধারে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।