বোরো ধান চাষে বিপাকে চাষিরা, প্রশাসনের অজ্ঞতায় বাড়ছে সমস্যা

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আমন ও বোরো ধানের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হচ্ছে। তবে এবার বালুরঘাট ব্লকের গাজীপুর গ্রামের কৃষকরা বোরো ধান চাষে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। সরকারি সাবমারসিবল পাম্পে জল সরবরাহের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে কৃষি জমিতে জল দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে বোরো ধানের চাষাবাদ দেরি করে শুরু হয়েছে বলে কৃষকদের আক্ষেপ।

ইতিমধ্যেই বীজতলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বোরো ধান রোপনের কাজ শুরু হয়েছে বালুরঘাটের কৃষি জমিতে। কিন্তু সরকারি সাবমারসিবল পাম্প থেকে জল সরবরাহের গতি খুবই ধীর হওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। পাম্প হাউজের একদিকে মোটামুটি জল পাওয়া গেলেও অন্য প্রান্ত প্রায় শুকিয়ে এসেছে। পাম্প হাউজের বাঁদিকে জলের অভাবে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এলাকায় সরকারি পাম্প হাউজ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতি বছর চাষাবাদের কাজের সুবিধার্থে জল সরবরাহ করা হয়। এর জন্য কৃষকদের প্রতি বিঘা জমির হিসেবে এক মরসুমে ৪৫০ টাকা দিতে হয়। পাম্প হাউজ স্থাপনের পর কৃষি জমিতে জল সেচের অনেক সুবিধা হয়েছিল বলে জানান কৃষকরা। কিন্তু এবার বোরো ধান চাষের শুরুতেই সাবমারসিবল পাম্প হাউজে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, জল সরবরাহের গতি ধীর হওয়ায় তাদের জমিতে সময়মতো জল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বোরো ধানের চাষাবাদ দেরি করে শুরু করতে হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক। তারা চান, সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন সাবমারসিবল পাম্প হাউজের সমস্যা দ্রুত সমাধান করে জল সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে যেন এমন সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করেছেন তারা।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, তারা ইতিমধ্যেই এই সমস্যার কথা জানতে পেরেছেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, শীঘ্রই পাম্প হাউজের সমস্যা সমাধান করে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষকরা আশা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হলে তারা সময়মতো বোরো ধানের চাষাবাদ সম্পন্ন করতে পারবেন এবং ভালো ফলন পাবেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষি অর্থনীতিতে বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।