কাটা হয় গলার নলি, ট্রলি ব্যাগে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ফের চাঞ্চল্যকর এলাকা! তদন্তে পুলিশ

কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রলি ব্যাগের ভেতর যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নয়া মোড়। তদন্তে নেমে পুলিশ মৃত যুবক এবং অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, কীভাবে খুন করা হয়েছিল, সেই তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ট্রলি ব্যাগে থাকা ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে ধোঁয়াশায় তদন্তকারী আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম ভাগারাম। তাঁর বাড়ি রাজস্থানে। অভিযুক্ত দুই যুবকের নাম কৃষ্ণরাম সিং এবং করণ সিং। তাঁরা কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং ভাগারামের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।

ভাগারাম চুড়িদারের পাইকারি ব্যবসা করতেন, অভিযুক্ত দুই যুবকের কাছ থেকে কাপড় কিনতেন।দীর্ঘদিন ধরে ভাগারামের কাছে ৮ লক্ষ টাকা পাওনা ছিল অভিযুক্তদের।বারবার টাকা চাওয়ার পরও না মেলায় খুনের পরিকল্পনা করেন করণ ও কৃষ্ণরাম।

ভাগারামকে গিরিশ পার্কের ভাড়া বাড়িতে ডেকে পাঠান অভিযুক্তরা।তাঁকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়।অচৈতন্য হয়ে পড়ার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।পরে গলার নলি কেটে ফেলে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যু।দেহটি একটি বড় ট্রলি ব্যাগে ভরে নাগেরবাজার নিয়ে যাওয়া হয়।সেখান থেকে ক্যাব ভাড়া করে ঘোলা এলাকায় দেহ ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

গতকাল রাতে যখন অভিযুক্তরা দেহ ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল, তখন ক্যাব চালকের সন্দেহ হয়।তিনি ট্রলি ব্যাগের ওজন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই এক অভিযুক্ত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।পুলিশ তৎক্ষণাৎ করণ সিংকে গ্রেপ্তার করে।পরে করণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘোলা থেকে কৃষ্ণরাম সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারীরা এখন ট্রলি ব্যাগে রাখা ৬৫ হাজার টাকার উৎস খুঁজছেন।খুনের পর কেন টাকা ফেলে যাচ্ছিল অভিযুক্তরা?এটি কোনও অন্য অপরাধের অংশ কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।পুলিশ এখন দুই অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করছে।