শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে ছাত্রের চাপা! ‘ব্রাত্য বসু ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল’- পোস্টার নিয়ে তুঙ্গে উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আদালতের নির্দেশে ইন্দ্রানুজের অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে টিভি৯ বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযোগ দায়েরের আগেই ব্রাত্য বসুর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল।এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে পোস্টার পড়ে গেছে। তাতে লেখা – ‘ব্রাত্য বসু ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল’। এই পোস্টারের সূত্র ধরে সিপিএম নেতা পলাশ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লেকটাউন থানার পুলিশ।

গত ১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় ছাত্র আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি আন্দোলনরত ছাত্র ইন্দ্রানুজকে প্রায় পিষে দিয়েছিল।ইন্দ্রানুজের বাঁ চোখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, যার দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।ব্রাত্য বসু ওইদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল প্রভাবিত কর্মী সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।সেসময় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছিল।ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় ব্রাত্য বসুর গাড়ি অবরোধের মুখে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে—আন্দোলনকারীরা ব্রাত্য বসুর গাড়িতে ইট ছোড়ে এবং পাইলট গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।মন্ত্রী নিজেও আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হন।পরে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তৃণমূল সমর্থিত কর্মী সংগঠন ‘শিক্ষাবন্ধু’র অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

মন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেন।ইন্দ্রানুজ গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।উপাচার্য হাসপাতালে আহত ছাত্রকে দেখতে গেলে কয়েকজন ছাত্রী তাঁর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয়।এফআইআর ও রাজনৈতিক চাপানউতোরব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।তৃণমূলের অভিযোগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলি পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।সিপিএম ও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনই ক্যাম্পাসে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়ার পর তাঁর বাড়ির সামনে ‘ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল’ লেখা পোস্টার পাওয়া যায়।এই ঘটনার জন্য সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সাধারণ সম্পাদক পলাশ দাসকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।সিপিএমের দাবি, এটি সরকারের কৌশল, যাতে বিক্ষোভ দমন করা যায়।

এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র আন্দোলন, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।এই মুহূর্তে নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়ার উপর।