SPORTS: “রোহিতদের সঙ্গে ঘরের ছেলে”- বিজয় উৎসবে মুখরিত বাংলার এই গ্রাম

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ঘিরে রবিবার সারাদিন উত্তেজনায় টানটান ছিল গোটা দেশ। রাজনীতিবিদ থেকে পর্দার তারকা—সকলের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের জামিট্যা গ্রামে এই উন্মাদনা ছিল একেবারে আলাদা। কারণ, এই গ্রামের ছেলে দয়ানন্দ গরানি এখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের ফিটনেস ট্রেনার। ফাইনাল দেখতে রবিবার দুপুর থেকে জামিট্যায় যেন বনধের পরিস্থিতি। বন্ধ ছিল বাজার-হাট, রাস্তাঘাট শুনশান—অঘোষিত কার্ফুর মতো দৃশ্য। সকলের নজর ছিল টিভির পর্দায়।

২০২০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলে ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে যোগ দেন শহিদ মাতঙ্গিনী এলাকার জামিট্যার বাসিন্দা দয়ানন্দ গরানি। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারতীয় দল ফাইনালে ওঠার পর থেকে গোটা দেশের পাশাপাশি জামিট্যা গ্রামও ক্রিকেট-জ্বরে ভুগতে শুরু করে। দয়ানন্দ এখানকার জামিট্যা শহিদ মাতঙ্গিনী স্পোর্টস অ্যাকাডেমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। রূপনারায়ণ নদের চরে বিশাল ফাঁকা মাঠে একসময় তিনি নিজে ক্রিকেটের পাঠ নিতেন। আজ সেই মাঠেই তাঁর অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীরা অনুশীলন করেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীরা মাঠে পৌঁছে যায়। ভারতীয় দলের সাফল্য কামনায় নেটে তারকাদের ছবি ঝোলানো হয়, দু’পাশে জাতীয় পতাকা শোভা পায়। শিক্ষার্থীরা পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে দেশের জন্য স্লোগান দিতে থাকেন। অ্যাকাডেমির উদ্যোগে জামিট্যায় একটি হলঘরে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকার মানুষও ভিড় জমান ফাইনাল দেখতে। জয়ের আনন্দ উপভোগ করতে স্থানীয়রা আগে থেকেই আতশবাজি মজুত করে রাখেন। খেলা চলাকালীন জামিট্যা জুড়ে শুধু বাজির শব্দই শোনা গেছে।

অ্যাকাডেমির সম্পাদক শ্যামলেন্দু আদক বলেন, “ভারতের জয়ের ব্যাপারে আমরা শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলাম। জামিট্যার মানুষ আজ সকাল থেকে ক্রিকেট-জ্বরে আক্রান্ত। এই গ্রামের ছেলে দয়ানন্দ ভারতীয় ক্রিকেট দলের ট্রেনিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। আমাদের কাছে তার গুরুত্বই আলাদা।” দুপুরের পর জামিট্যা বাজার বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ি বাড়ি টিভির সামনে বসে খেলা দেখেছেন গ্রামবাসী, যার মধ্যে ছিলেন দয়ানন্দের বাবা-মাও।

দয়ানন্দের মা আভারানি গরানি বলেন, “ছেলে প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নেয়। আজ সকালেও কথা হয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আমিও নিশ্চিত ছিলাম।” ফাইনালে ভারতের জয়ে জামিট্যায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দয়ানন্দের হাত ধরে এই গ্রামের গর্ব আজ গোটা দেশের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে।