ধারের কাছেও ঘেঁষছে না ‘চিকেন-লাভার’রা! দোকানে বসে মাছি তাড়াচ্ছে মুরগি ব্যবসায়ীরা, কেন?

বাংলার ঘরে ঘরে যেখানে একসময় দু’বেলা মুরগির মাংস ছাড়া চলত না, সেখানে এখন হঠাৎই থালা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে এই প্রিয় খাবার। বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (H5N1 ভাইরাস) আতঙ্কে মুরগির মাংস এড়িয়ে চলছেন সাধারণ মানুষ। দাম ১০০ টাকা পর্যন্ত কমলেও পোলট্রি দোকান ও রেস্তোরাঁয় চিকেন আইটেমের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায়। গত ৭ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের সতর্কতা ও বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এই ভীতি ছড়িয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে দেশের ৯টি রাজ্য—ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাব, তেলঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, কেরল সহ—এ বার্ড ফ্লু সংক্রমণের খবর মেলায় কেন্দ্রীয় ডেয়ারি ও পশুপালন বিভাগ জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। পোলট্রি ফার্ম, পাখির বাজার ও প্রতিপালিত প্রাণীর স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে ৫,৫০০ পাখি ও তেলঙ্গানায় ৩,৫০০ দেশি মুরগি মেরে ফেলা হয়েছে সংক্রমণ রোধে।
ঝাড়খণ্ডে একটি সরকারি পোলট্রি ফার্ম থেকে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে। অন্ধ্র প্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় সংক্রমণ শনাক্ত হলে তেলঙ্গানা সীমান্তে মুরগি আমদানি বন্ধ করে দেয়। পশুপালন বিভাগের মতে, H5N1 ভাইরাস মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে, যদিও এখনও পর্যন্ত মানবদেহে সংক্রমণের রিপোর্ট নেই। তবুও সতর্কতায় পোলট্রি খামার ও বাজারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দাম কমলেও ভোক্তাদের ভীতি কাটেনি। কলকাতার একটি পোলট্রি দোকানের মালিক সুব্রত দাস বলেন, “মুরগির দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকা কমিয়েছি, তবু ক্রেতা নেই। লকডাউনের সময়ও এত ধস নামেনি!” রেস্তোরাঁগুলিতেও চিকেন বিরিয়ানি, রোস্ট, কারি আইটেমের বিক্রি ৯০% কমেছে। ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মেও চিকেন অর্ডারে ভাটা।
পশু চিকিৎসক ডা. অরিন্দম ঘোষের মতে, “সঠিকভাবে রান্না করলে ভাইরাসের ঝুঁকি থাকে না। তবে আক্রান্ত এলাকার মাংস এড়ানোই ভালো।” সরকারও জনগণকে পোলট্রি পণ্য কেনার সময় সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস সত্ত্বেও, স্থানীয় পোলট্রি শিল্পের ক্ষতি Already কোটি টাকার ঘরে। স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি—দুটোর জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এই সংকটে। আতঙ্ক কাটলে তবেই ফিরবে বাঙালির প্রিয় খাবারের থালায় মুরগির রেশমি স্বাদ।