সুমিতার দেহ বাড়িতে রেখে কলকাতায় ২.৫ লক্ষ টাকার গয়না অর্ডার মা-মেয়ের, প্রকাশ্যে একাধিক তথ্য

মধ্যমগ্রামের প্রৌঢ়া সুমিতা ঘোষ খুনের রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হলো। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুমিতা ঘোষকে খুন করা হয়েছে তাঁর টাকা এবং গয়না ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসাবে নাম উঠে এসেছে সুমিতার শাশুড়ি আরতি ঘোষ এবং তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষের। তবে, যদিও মোটিভ স্পষ্ট হয়েছে, কিছু প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে বলে জানান তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সুমিতা ঘোষ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যমগ্রামে ফাল্গুনী ঘোষের বাড়িতে আসেন। সুমিতা, ফাল্গুনীর পিসি শাশুড়ি ছিলেন। তবে, ২০১৭ সালে সুমিতার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। এরপর একদিন পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড় এলাকায় সুমিতাকে নিয়ে যান ফাল্গুনীরা, যেখানে সুমিতার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। তদন্তকারীরা জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি সুমিতা ঘোষের অসম ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁকে খুন করে মা ও মেয়ে।
তদন্তের আরও খুঁটিনাটি জানাচ্ছে, ফাল্গুনী ঘোষ সুমিতার UPI পাসওয়ার্ড জানতেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি সুমিতার দেহ ফেলে রেখে মা ও মেয়ে কলকাতায় চলে যান। পরে তারা বড়বাজারে একটি বড় ট্রলি ব্যাগ কিনে সুমিতার দেহ লোপাট করার পরিকল্পনা করে। এরপর, সুমিতার গয়না খুলে বিক্রি করে তারা মোট ৪২ হাজার টাকা পান। এই টাকা দিয়ে তারা বড়বাজারে একটি গয়নার দোকানে ২৫ লক্ষ টাকার গয়নার অর্ডার দেন। সুমিতা ঘোষের UPI পাসওয়ার্ড দিয়ে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়।
গোয়েন্দারা এখন সুমিতার ট্রেনের টিকিটও উদ্ধার করেছেন, এবং তাদের ধারণা, খুন করে সুমিতার দেহ লোপাট করা হয়েছে যাতে কেউ জানতেই না পারে যে তিনি আসলে অসম ফিরে যাচ্ছিলেন এবং পথে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় এখনও অনেক অজানা দিক রয়েছে, এবং তদন্তকারীরা নিরন্তর চেষ্টা করছেন আরও তথ্য উদ্ধার করতে। তবে, এটাই এখন স্পষ্ট যে সুমিতা ঘোষকে খুন করার পিছনে ছিল অর্থ এবং গয়না ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা, যা রীতিমতো চমকপ্রদ ও ভয়াবহ।