‘ওড়না নামাও…’,বাংলাদেশে ছাত্রীর সঙ্গে চরম অশ্লীল ব্যবহার, অভিযুক্তকে মালা দিয়ে বরণ মৌলবাদীদের

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা যেন একে একে উঠে আসছে প্রতিদিন। উন্নয়নের নামে মৌলবাদীরা নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারের উপর আঘাত করছে, যার ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীর হেনস্থার ঘটনা সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মী মোস্তফা আসিফ এক ছাত্রীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার ওড়না ঠিকভাবে না পরার কারণে শাসন করেন। ছাত্রীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে অপমানজনক ভাষায় বলে, “দেহ সঠিকভাবে ঢাকা নেই। ওড়না দিয়ে শরীর ঢাকতে হবে।” এই ঘটনায় ছাত্রীর সহপাঠীরা অভিযুক্তের ছবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলে, তারা তাকে খুঁজে বের করে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযুক্ত নিজেও অপরাধ স্বীকার করে নেন।
কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় অন্য দিকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি উন্মত্ত জনতা থানায় চড়াও হয় এবং অভিযুক্তকে মুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে তারা অভিযোগকারিণী ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য জোরাজুরি শুরু করে। সামাজিক মিডিয়ায় ছাত্রীর পরিচয় প্রকাশ করে তাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ও অশ্লীল মেসেজ পাঠানো হয়, যা ভাইরাল হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত আসিফকে আদালতে পেশ করা হলে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব তার জামিন মঞ্জুর করে দেন। জামিন পাওয়ার পর অভিযুক্তকে ‘তৌহিদী জনতা’ নামক গোষ্ঠী ফুল দিয়ে বরণ করে, যা সমাজে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ঘটনা, যেখানে নারী নির্যাতনকারীকেই বীরের মতো সম্মান জানানো হয়েছে এবং নির্যাতিত ছাত্রীর সামাজিকভাবে আরও হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সভ্য সমাজে এর প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে সমাজের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও তার সহপাঠীরা মনে করছেন, মৌলবাদী শক্তির প্রতি এই ধরনের সমর্থন নারীদের জন্য একটি বিপজ্জনক পরিণতি তৈরি করতে পারে। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।