“৮ বছর ধরে বন্ধ প্রকল্পের কাজ”- রেলকে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট

অবশেষে কাটল তারকেশ্বর – বিষ্ণুপুর রেলপথের দীর্ঘদিনের জট। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক নির্দেশে জানিয়ে দিল, ভবদিঘির ওপর দিয়েই চলবে রেল। হাইকোর্টের মন্তব্য, আড়াই লক্ষ মানুষের স্বার্থের তুলনায় আড়াইশো মানুষের স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।
বিগত আট বছর ধরে জমি অধিগ্রহণের কাজ থমকে থাকার পর এই রায় এল। গোঘাট এবং কামারপুকুর স্টেশনের মাঝে ভবদিঘির ওপর রেলপথ নির্মাণে স্থানীয়দের আপত্তি ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ভবদিঘির জলাশয়ে রেল লাইন স্থাপন হলে সেখানে পরিবেশগত ক্ষতি হবে এবং স্থানীয় কৃষি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সমস্যার সৃষ্টি হবে। এলাকার বাসিন্দারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন।
তবে, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, ভবদিঘির ওপর দিয়ে রেল লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম মন্তব্য করেন, “আড়াই লক্ষ মানুষের স্বার্থের তুলনায় আড়াইশো মানুষের স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।”
এই রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রেলের কাজ আবারও শুরু হবে। হাইকোর্টের নির্দেশে জানা যায়, যেসব স্থানে রেলের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, সেগুলি ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অন্যদিকে, যেখানে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি, সেগুলিতে ৬ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রতি আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত এই প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমি আশা করি রাজ্য সরকার রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবে যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।”
এতদিন ধরে বন্ধ থাকা এই রেলপথ নির্মাণ কাজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনার শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন ঘটবে এবং রেলপথটি এলাকার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।