অবাঙালি এলাকায় ‘ফেল’, ভোটার বৃদ্ধিতে সংখ্যালঘু প্রভাবে অভিযোগ BJP-র, পাল্টা আক্রমণ TMC-র

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার বৃদ্ধিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিজেপি রাজ্যে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে ‘সংখ্যালঘু প্রভাব’ ও ‘রোহিঙ্গা তত্ত্বের’ অভিযোগ তুলেছে, যা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের বিধানসভা ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার বৃদ্ধির গড় হার ৮.৬৯ শতাংশ। কিন্তু রাজ্যের ১৩৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি কেন্দ্র মুসলিম অধ্যুষিত। পাশাপাশি, বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ১৫৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৩টি মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের অভিযোগ, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলিতে ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তৃণমূলের ভোটব্যাংক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বিজেপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ভোটার বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি রাজারহাট নিউটাউনে (১৯.৯৬%), বারুইপুর পশ্চিমে (১৬.৬৪%), সোনারপুর উত্তরে (১৫.৫৭%) এবং সুজাপুরে (১৫.০১%)। তবে অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম বলেই দাবি তাদের।

বিজেপির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘মুসলিম-বিরোধী’ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘‘এগুলো বিজেপির পুরনো কৌশল। এরা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।’’ একই সুরে বিধায়ক শওকত মোল্লার বক্তব্য, ‘‘বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষতাকে সম্মান করে না। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে বাংলার মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে তারা।’’

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক বঙ্গ রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিজেপির অভিযোগ ও তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জেরে সামনের দিনগুলিতে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক রূপ নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।