“ফাইনালে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে দুবাইয়ের পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে” : রাচীন রবীন্দ্র

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের জয়ে রাচিন রবীন্দ্র প্রমাণ করেছেন কেন তিনি কিউই শিবিরের এক অমূল্য রত্ন। ওপেন করতে নেমে ১০১ বলে ১০৮ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই সেঞ্চুরির হাত ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড। তবে ফাইনাল ম্যাচের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন রাচিন—দুবাইয়ের পিচের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে তাদের।
এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সমস্ত ম্যাচ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হলেও ভারত বিপক্ষে একমাত্র গ্রুপ-পর্যায়ের ম্যাচটি তারা দুবাইয়ে খেলেছে। রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতকে পাকিস্তানে খেলার অনুমতি না দেওয়ায় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এই হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান এবং দুবাই দুই দেশেই ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এই কারণেই রাচিন রবীন্দ্র মনে করছেন, ভারতের তুলনায় নিউজিল্যান্ডের জন্য দুবাইয়ের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
রাচিন বলেন, “দুবাইয়ের পিচ সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি জানি না। আমাদের (গ্রুপ) ম্যাচে বল কিছুটা ঘুরছিল, কিন্তু পরবর্তী ম্যাচে সেভাবে বল ঘোরেনি। সুতরাং, রবিবারের ফাইনালে আমাদের পিচ এবং পরিবেশ অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। দু’-একদিনের মধ্যে আমরা এই উইকেটটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারব। আশা করি, এটি একটি ভালো ক্রিকেট উইকেট হবে।”
সেমিফাইনালে রাচিন রবীন্দ্র এবং কেন উইলিয়ামসন একটি রেকর্ড পার্টনারশিপ তৈরি করেন, যেখানে ১৬৪ রান জুটিতে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের কিপার ভূমিকা পালন করেন। রাচিনের ১০৮ এবং উইলিয়ামসনের ১০২ রানের দারুণ ইনিংসের ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে ৩৬২ রান করে, যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার ১০০ রান করেছিলেন, তবুও নিউজিল্যান্ড ৫০ রানে ম্যাচটি জিতে যায়।
এখন ফাইনাল ম্যাচের জন্য রাচিন একদম প্রস্তুত। তিনি বলেন, “ফাইনালে বড় স্কোর করার জন্য আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। যদিও আপনি যখনই ব্যাট করতে যান, আউট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আমি আশা করি, ফাইনালে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট করতে পারব এবং দলের জন্য ভালো পারফর্ম্যান্স দেখাতে পারব।”
সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে রাচিন ৬ রান করে আউট হয়েছিলেন। তবে এবার ফাইনালে তাকে আরও বড় ইনিংস খেলার জন্য উন্মুখ কিউয়ি সমর্থকরা। কিউই দল এখনও তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য আত্মবিশ্বাসী, এবং রাচিন বলেছেন, “আমরা আমাদের প্রস্তুতির প্রতি সন্তুষ্ট এবং ফাইনালে যথাসম্ভব ভালো খেলার জন্য প্রস্তুত।”
এবার সকলের নজর ফাইনাল ম্যাচের দিকে, যেখানে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে হবে ক্রিকেটের এক বড় যুদ্ধ।