“একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়…!”-মধ্যরাতে পরিচালককে কেন কল করেন অমিতাভ?

বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন বয়সের সীমা পেরিয়েও কাজের প্রতি তাঁর অসাধারণ নিষ্ঠা ও পারফেকশনিজম দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে চলেছেন। ১৯৭০-এর দশকে ‘রাগী যুবক’ হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত নাম হয়ে উঠেছেন। গত বছর ৮২-এ পা দিয়েও তাঁর কাজের প্রতি অঙ্গীকারে কোনো ভাটা পড়েনি, তবে বয়সজনিত চ্যালেঞ্জের কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
নিজের ব্লগে অমিতাভ সম্প্রতি লিখেছেন, বয়সের কারণে এখন চিত্রনাট্যের সংলাপ মনে রাখতে তাঁর সমস্যা হয়। এই সমস্যা সমাধানে তিনি গভীর রাতে পরিচালকদের ফোন করেন এবং দৃশ্যগুলো আরও ভালোভাবে সম্পাদনার জন্য দ্বিতীয় সুযোগ চান। তিনি লিখেছেন, “কাজের জন্য প্রচুর মিটিং করতে হয়। কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করব, কোনটা প্রত্যাখ্যান করব, ভদ্রতার সঙ্গে কীভাবে না বলতে হবে—এসব নিয়ে ভাবতে হয়।”
কাজের প্রতি সুবিচারের চিন্তা
অমিতাভ আরও বলেন, “একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। আমার মন সবসময় এই ভাবনায় থাকে—যে কাজ পাচ্ছি, তার প্রতি কি সুবিচার করতে পারব? এরপর কী হবে? সবই অজানা।” তিনি জানান, শুটিং শেষে বাড়ি ফিরে বোঝা যায় কতগুলো ভুল হয়েছে। তিনি বলেন, “কীভাবে সেগুলো ঠিক করা যায়, তা নিয়ে ভাবি। অনেকবার মধ্যরাতে পরিচালককে ফোন করে সংশোধনের আরেকটা সুযোগ চেয়েছি।”
জীবনের পরিবর্তন ও দর্শকের প্রত্যাশা
সময়ের সঙ্গে জীবনের অনেক কিছু বদলে যায় বলে মনে করেন অমিতাভ। তিনি লিখেছেন, “অভিনেতারা যদি দর্শকদের মুখোমুখি না হন, তেমন পারফরম্যান্স না দিতে পারেন, তাহলে সব চলে যায়। এটা সকলের জীবনেই ঘটে।” তাঁর কথায়, জীবনের চক্র কখনও থেমে থাকে না, এবং তিনি সেই সত্যকে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
বলিউডে অমিতাভের অবদান
১৯৭০-এর দশকে ‘জঞ্জির’, ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’-এর মতো ছবিতে ‘রাগী যুবক’ চরিত্রে অভিনয় করে অমিতাভ দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলেন। সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন—‘মোহব্বতে’, ‘ব্ল্যাক’, ‘পা’-এর মতো ছবিতে তাঁর বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা প্রমাণিত হয়েছে। এখনও ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র মতো টেলিভিশন শো এবং নতুন সিনেমায় তিনি সক্রিয় রয়েছেন।
৮২ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চন কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে প্রমাণ করছেন কেন তিনি বলিউডের ‘শাহেনশাহ’। বয়সের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তাঁর এই প্রচেষ্টা তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর কথায়, “যাই হোক না কেন, জীবনের চক্র চলতেই থাকে”—এই দর্শন নিয়ে তিনি এখনও অভিনয় জগতে অপরিহার্য হয়ে উঠছেন।