‘লক্ষ্য একটাই— ঘুরে দাঁড়ানো’- শূন্যের গেরো কাটিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতিতে সিপিএম

রাজ্যের মাটিতে সংগঠন ধরে রাখার লড়াইয়ের পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতে পুনরুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিএম। লক্ষ্য একটাই— শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়ানো। আর সেই লক্ষ্যে তৃণমূল ও বিজেপির পথেই হাঁটতে চাইছে দল।

সম্প্রতি একটি পেশাদার সংস্থার মাধ্যমে সিপিএমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রাজ্য সম্মেলনে সেই রিপোর্টই উপস্থাপন করা হয়। এখন দলের আইটি সেল গঠনের পাশাপাশি সংগঠনের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

এক সময় বাংলার প্রত্যেকটি বুথে শক্তিশালী সংগঠন ছিল সিপিএমের। কিন্তু এখন সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই বুথ স্তরকে পুনর্গঠিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দল।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করেছেন, এই পেশাদার সংস্থা কোনো আর্থিক বিনিময়ে কাজ করছে না। তবে বাস্তবতা হলো, তৃণমূল আইপ্যাকের সাহায্য নেয়, বিজেপির নিজস্ব পেশাদার টিম রয়েছে, আর সিপিএমও একই পথে হাঁটছে।

১৫ বছরের ভোট বিশ্লেষণ, পরিবর্তন আসবে প্রচারেও রাজ্য সম্মেলনে দলের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। জানা গেছে,গত ১৫ বছরের বুথভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে।কোন বুথে কেন ভোট কমেছে, কার ভোট কতটা বেড়েছে, সবই খতিয়ে দেখা হবে।এই তথ্য বিশ্লেষণ করেই নতুন আন্দোলনের কৌশল ঠিক করা হবে।এছাড়াও, ভোট প্রচারের ধরনে বদল আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কিছু মাস আগেই সিপিএম সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ডেটা অ্যানালিস্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য। রাজ্য সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে, নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই দল কাজ শুরু করে দিয়েছে।

এক সময় সিপিএম বাংলায় কম্পিউটারের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। আজ তারাই প্রযুক্তির সাহায্যে ভোটব্যাংক ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাই অনেকেই রসিকতা করে বলছেন,”এটাই বোধহয় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা!”