তৃণমূলের রাজ্য সম্মেলনের আগে অভিষেকের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, উঠছে নানা প্রশ্ন

আর বছর খানেকের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। শাসকদল তৃণমূল চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কোমর বেঁধেছে। আগামী বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এর ঠিক আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন—

“যিনি লড়াইয়ের ইচ্ছা রাখবেন, তাঁর প্রথমে কী কী মূল্য চোকাতে হতে পারে, তার হিসেব করে নেওয়া দরকার।”

এই বক্তব্যের লক্ষ্য ঠিক কারা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই রাজ্য সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে তৃণমূলের পঞ্চায়েত, ব্লক, জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনের মূল বক্তা দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই সভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দেবেন মমতা, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। গতকাল রাজ্য সম্মেলনের দিন ঘোষণার পর কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকও হয়েছে। ফলে, বৃহস্পতিবারের সম্মেলন নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে।

রাজ্য সম্মেলনের আগে অভিষেকের এই পোস্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে—

সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের ভেতরে নবীন বনাম প্রবীণ বিতর্ক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দলের একাধিক সিনিয়র নেতার বক্তব্যে তা প্রকাশ পেয়েছে। আবার অনেক অভিষেকপন্থী নেতাও এখন সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে কথা বলছেন। তাহলে কি এই বার্তা তাঁদের উদ্দেশে?

বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ২০২৬-এর ভোটের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত তৃণমূল। অভিষেকের এই পোস্ট কি বিরোধীদের কটাক্ষ করে দেওয়া বার্তা?

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করতে চাইছে। তাই কি দলের ভেতরকার কিছু সদস্যকে সতর্ক করলেন অভিষেক?

রাজনৈতিক মহলের মতে, যাঁর উদ্দেশেই এই বার্তা হোক, তৃণমূলের রাজ্য সম্মেলনের আগে অভিষেকের এই পোস্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, বৃহস্পতিবারের সম্মেলন থেকে মমতা ও অভিষেক কী বার্তা দেন, এবং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রণনীতি কীভাবে গড়ে ওঠে।