“লিগ শিল্ড জিতেই পরের লক্ষ্য স্থির মোহন বাগানের”-সাফল্যের নেপথ্যে আছে কোন কারণ গুলো?

মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (এসজি) রবিবার ঘরের মাঠে ওডিশা এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইএসএল লিগ শিল্ড জিতে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে হোসে মোলিনার নেতৃত্বাধীন সবুজ-মেরুন ব্রিগেড ২২ ম্যাচে ৫২ পয়েন্টে পৌঁছে লিগ শিল্ড নিশ্চিত করেছে। শেষ মুহূর্তে দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উল্লাসে ফেটে পড়ে মোহনবাগান সমর্থকরা। এই জয়ের মাধ্যমে মোহনবাগান এসজি আইএসএলের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে লিগ শিল্ড ধরে রাখার গৌরব অর্জন করল। তবে শিল্ড জয়ের পরও থেমে নেই মোলিনা ব্রিগেড। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য এখন আইএসএল ট্রফি।

ধারাবাহিক সাফল্যের পথে
গত মরশুমেও লিগ শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান এসজি। তবে সেই মরশুমে আইএসএল ট্রফি অধরা থেকে যায়। এবার লিগ শিল্ড জয়ের পর দলের ফোকাস এখন আইএসএল ট্রফির দিকে। জয়ের পর গোটা দল উৎসবে মেতে ওঠে। দলের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও ফুটবলারদের সঙ্গে আনন্দে যোগ দেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটা পুরো দলের কৃতিত্ব। কোচ থেকে ফুটবলার, সবাই একসঙ্গে এক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। আগামী দিনে আমরা আরও ট্রফি জিততে চাই।”

মোহনবাগান এসজি এখন পর্যন্ত আইএসএলে তিনটি খেতাব জিতেছে – ২০২২-২৩ মরশুমে আইএসএল ট্রফি, গত মরশুমে লিগ শিল্ড এবং এবার ফের লিগ শিল্ড। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বলেন, “আমাদের কাছে প্রতিটি খেতাবই বিশেষ।” এই মরশুমের শুরুতে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে হারের পর আইএসএলের সূচনাও ভালো হয়নি। সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল দলকে। কিন্তু শুভাশিস বোস, জেমি ম্যাকলারেনরা মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন।

সাফল্যের নেপথ্যে কী?
মোহনবাগান এসজির এই ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিগত কয়েক মরশুম ধরে মূল দলটিকে ধরে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসো, আশিস রাই, আশিক কুরুনিয়ান-সহ ১১ জন ভারতীয় ফুটবলার দলে অটল রয়েছেন। ভারতীয় স্কোয়াডে তেমন পরিবর্তন আনা হয়নি। দ্বিতীয়ত, এই মরশুমের শুরুতে দলে যুক্ত করা হয় অস্ট্রেলিয়ান তারকা জেমি ম্যাকলারেনকে। অস্ট্রেলিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা ম্যাকলারেনের আগমন মোহনবাগানের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই মরশুমে তিনি ১০টি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার তকমা ধরে রেখেছেন।

তৃতীয় কারণ হল ক্লাব ও ইনভেস্টরদের মধ্যে সুসম্পর্ক। অন্যান্য ক্লাবে যেখানে ক্লাব ও ইনভেস্টরদের মধ্যে প্রায়ই সংঘাত দেখা যায়, সেখানে মোহনবাগান এসজিতে তা অনুপস্থিত। উভয় পক্ষই একসঙ্গে কাজ করে দলের সাফল্য নিশ্চিত করছে। চতুর্থত, দলের সুস্থ পরিবেশ। একাধিক তারকা ফুটবলার থাকলেও কারও সঙ্গে কারও ইগোর সমস্যা নেই। অনেক তারকা রিজার্ভ বেঞ্চে বসেও দলের জন্য উৎসর্গের পরিচয় দিয়েছেন, কখনও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি।

শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ
দলের সাফল্যে আরেকটি বড় ভূমিকা রিজার্ভ বেঞ্চের। মোহনবাগান এসজি শুধু মূল দলই নয়, রিজার্ভ বেঞ্চকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছে। এই মরশুমে প্রয়োজনের সময় দিব্যেন্দু বিশ্বাস, অভিষেক সূর্যবংশীর মতো তরুণ ফুটবলাররা মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করেছেন। দলের কম্বিনেশন বজায় রাখতে তারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন।

ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য
এই মরশুমে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ১০টি ম্যাচ খেলে ৯টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মোহনবাগান এসজি। ঘরের মাঠে সমর্থকদের উৎসাহকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে মোলিনা ব্রিগেড। মরশুমের শুরুতে আনোয়ার আলির প্রস্থান নিয়ে বিতর্ক হলেও, শুভাশিস বোস, আশিস রাইদের পারফরম্যান্সে সেই অভাব বোঝা যায়নি। টিম গেমই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

পরবর্তী মিশন: আইএসএল ট্রফি
লিগ শিল্ড জয়ের পর এবার শুভাশিসদের লক্ষ্য আইএসএল ট্রফি। গত মরশুমে শিল্ড জিতলেও ফাইনালে হারতে হয়েছিল। এবার দল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তারা ঘরের মাঠে শুধু শিল্ড নয়, আইএসএল ট্রফিও জিতবে। মোলিনা ব্রিগেডের এই ধারাবাহিকতা ও দৃঢ়তা ভারতীয় ফুটবলে মোহনবাগান এসজিকে একটি আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।