SPORTS: বাংলাদেশকে হারানোর দিনে রোহিতের অনন্য দুই রেকর্ড, খবরে উচ্ছসিত ফ্যানেরা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে সহজেই হারিয়েছে ভারত। ম্যাচজুড়ে ভারতীয় দলের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, যেখানে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই তারা এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে। তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু ইনিংসও ছাপিয়ে গেছে শুভমান গিলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।

শুভমান গিল তার ৮ম ওয়ানডে শতরান তুলে নেন, যা বাংলাদেশের স্কোরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে শুধু তার ব্যাটিং নয়, এদিন আরও দুটি বড় রেকর্ড গড়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ৯ জন ব্যাটার ১১ হাজার রান করেছেন। সেই তালিকায় নাম লেখালেন রোহিত শর্মা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩ রান করতেই তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। সবচেয়ে কম ম্যাচে এই কীর্তি গড়ার দৌড়ে রোহিত টেন্ডুলকার ও রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে যান। তার চেয়ে কম ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েছেন কেবল বিরাট কোহলি। বিরাট ২২২ ইনিংসে ১১ হাজার রান করলেও, রোহিতের লেগেছে ২৬১ ইনিংস।

অধিনায়ক হিসেবে রোহিত গড়েছেন আরও এক অনন্য রেকর্ড। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০ বা তার বেশি ম্যাচ জিতেছেন এমন অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ জয়ের হার এখন রোহিতের দখলে। মাত্র ১৩৭ ম্যাচে ১০০তম জয় তুলে নিয়েছেন তিনি, যেখানে তার জয়ের হার ৭৩ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (৬৭.৯০%) এবং তৃতীয় স্থানে স্টিভ ওয়াহ (৬৬.২৫%)।

এদিন ভারতের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শুভমান গিল। ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে ১২৬ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ১২৯ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি। ম্যাচ শেষে শুভমান বলেন, “এই ইনিংস আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা। প্রথমবার আইসিসি প্রতিযোগিতায় শতরান করলাম, খুব ভালো লাগছে।”

দুবাইয়ের কঠিন উইকেটে ভারতীয় ব্যাটাররা কৌশল বদলে খেলেন। শুভমান বলেন, “আমি আর রোহিত ভাই ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বুঝতে পারি, এখানে বড় শট খেলা কঠিন। পেসারদের বিরুদ্ধে ক্রিজ ছেড়ে খেলেছি, স্পিনারদের বিরুদ্ধে পেছনের পায়ে খেলার চেষ্টা করেছি। রান নেওয়ার দিকেই বেশি নজর দিয়েছি, যাতে চাপ এড়ানো যায়।”

শেষ পর্যন্ত শুভমানের দুর্দান্ত ব্যাটিং ও রোহিতের নেতৃত্বে ভারত অনায়াসে জয় তুলে নেয়। এই জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য দলকে শক্ত ভিত দেবে।