“মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে আটকা পড়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি”-দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার কড়া ভাষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প রাশিয়ার “বিভ্রান্তির বুদবুদের” মধ্যে আটকে আছেন এবং ইউক্রেনের বাইরে কোনো আলোচনা করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে জেলেনস্কিকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেনস্কি স্পষ্ট জানান, ইউক্রেন ছাড়া এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

ট্রাম্পের দাবি বনাম বাস্তবতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা মাত্র ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার হার ৫৭ শতাংশ। ট্রাম্পের মন্তব্যকে ভ্রান্ত আখ্যা দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, “ট্রাম্প রাশিয়ার তৈরি বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিশ্বাস করছেন। কেউ যদি আমাকে সরিয়ে কোনো আলোচনা করতে চায়, তাহলে সেটি সফল হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্পের দল যদি সত্য জানতে চায়, তবে ইউক্রেনের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। আমরা পুতিনকে বিশ্বাস করি না, আমাদের সেনাবাহিনী শক্তিশালী এবং আমাদের জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে আপস মেনে নেবে না।”

রিয়াদ বৈঠক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার রিয়াদে বৈঠক করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এই বৈঠকের পরপরই জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া চলবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এই বৈঠকের বৈধতা দিচ্ছি না। আমাদের এ বিষয়ে জানানোই হয়নি। কিভাবে ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ইউক্রেন ছাড়া নেওয়া যাবে না।”

ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ
এদিকে, ট্রাম্পও জেলেনস্কির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য রাখেন। তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে “অযোগ্য” ও “দুর্বল আলোচক” বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের মতে, তিন বছর আগেই জেলেনস্কির উচিত ছিল রাশিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করা, যা তিনি ব্যর্থ হয়েছেন করতে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের পর আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল কিয়েভই নিতে পারবে, অন্য কেউ নয়।