“রাশিয়া কিছু করতে চায়..?”- ইউক্রেন যুদ্ধে ‘বর্বরতা’ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধে চলমান ‘বর্বরতা’র অবসান ঘটাতে চায় রাশিয়া— এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “রাশিয়া কিছু করতে চায়। ওখানে যে বর্বরতা চলছে তা বন্ধ করতে চায় তারা। প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার সেনা নিহত হচ্ছে। শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় সেনাই নয়, অনেক কোরিয়ানও মারা যাচ্ছেন। আমরা এই যুদ্ধের অবসান চাই।”
তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মঙ্গলবার সৌদি আরবের রিয়াদে দিরিয়াহ প্রাসাদে আলোচনা শুরু হয়। মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এবং রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সেখানে একমত হন যে, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউক্রেনে সংঘাত অবসানের পথে কাজ শুরু করার জন্য নিজ নিজ উচ্চ পর্যায়ের দল নিয়োগ করা হবে।”
তবে এই আলোচনায় ইউক্রেনকে বাদ দেওয়ায় কিয়েভের পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি আমেরিকা ও রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ কখনোই হত না। তার মতে, “এটি একটি অর্থহীন যুদ্ধ। এটা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না; আমি প্রেসিডেন্ট হলে এমনটা কখনোই হত না।”
এদিকে, ইউক্রেন যে মার্কিন সহায়তা পেয়ে আসছিল, তা বন্ধের পথে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে ইউএস এইড-এর সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা এবং অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হতে পারে।
জেলেনস্কি এই পরিস্থিতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কিছু এলাকা অদলবদল করে যুদ্ধ বন্ধের সমাধান খোঁজা যেতে পারে। তবে কিয়েভ কোন কোন দখল হওয়া এলাকা ফেরত চাইবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ হবে নাকি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অব্যাহত থাকবে, তা সময়ই বলবে।