প্রয়াগরাজে যানজটের জেরে বিভ্রান্তি, বন্ধ কুম্ভের রেলপথ? ‘আসল সত্যি’ প্রকাশ রেলমন্ত্রীর

মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান করতে আসা অগণিত ভক্তের ঢল এবার শহরের উপর ব্যাপক চাপ ফেলেছে। বিপুল ভিড়ের কারণে প্রয়াগরাজে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। বিশেষত, মাঘী পূর্ণিমার আগে শহরে যান চলাচলে কড়াকড়ি করা হয়েছে। ফলে শহরের প্রবেশপথে বিশাল যানজট সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে গুজব রটেছে যে প্রয়াগরাজ স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, প্রয়াগরাজ সঙ্গম স্টেশন এবং প্রয়াগরাজ জংশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই গুজব খণ্ডন করেছেন খোদ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে যে প্রয়াগরাজ জংশন বন্ধ। এটা একেবারেই সত্য নয়। গতকালই ১২ লক্ষ পুণ্যার্থী প্রয়াগরাজ জংশন থেকে ট্রেন ধরেছেন। সেখানে ৩৩০টি ট্রেন চালানো হয়েছে, যা একটি রেকর্ড। আজও এখন পর্যন্ত ১৩০টি ট্রেন ছেড়েছে।’

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাকুম্ভে ইতিমধ্যেই ৪০ কোটির বেশি মানুষ পুণ্যস্নান করেছেন। এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের জেরেই কিছু জায়গায় পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এবার আগেভাগেই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। শহরের ভেতরে চার চাকার যান প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে শহরের প্রবেশপথে তৈরি হয়েছে ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে প্রায় ২ ঘণ্টা। বহু মানুষ গাড়ি ফেলে হেঁটেই প্রয়াগরাজের দিকে রওনা দিচ্ছেন। ফলে পরিস্থিতি আরও চাপে ফেলছে প্রশাসনকে।

উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়াগরাজ জংশন এবং সঙ্গম স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ট্রেন ছাড়ছে, যাতে যাত্রীদের সমস্যায় না পড়তে হয়। পাশাপাশি, প্রয়াগরাজ শহরে প্রবেশের জন্য শাটল বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে, যাতে যানজট কমানো যায়।

আসন্ন মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে আরও বেশি মানুষের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

পুণ্যার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে এবং বিভ্রান্তিকর গুজবে কান না দিতে। রেল ও প্রশাসন উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে প্রয়াগরাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়নি।