“মমতার হাতে কম্যান্ড তুলে দেওয়া উচিত”-INDIA-জোটে TMC-র নিশানায় এবার কংগ্রেস পার্টি

দিল্লি নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর INDIA জোটে ভাঙনের সুর আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সমাজবাদী পার্টি (SP) ও শিবসেনা (UBT)-র পর এবার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ও আম আদমি পার্টি (AAP) কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কীর্তি আজাদ সরাসরি কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, “INDIA ব্লকের নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। কংগ্রেস কেন জোটের বৈঠক ডাকছে না? দিল্লিতে কংগ্রেস বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।”
দিল্লি নির্বাচনের পর INDIA জোটে টানাপোড়েন
মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই INDIA জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। দিল্লি নির্বাচনের পর সেই বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। অনেক নেতাই মনে করছেন, কংগ্রেস নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে জোট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে INDIA জোটের মুখ করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের নেতৃত্বে জোট বারবার পরাজিত হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ে ভালো নেতা আর কেউ হতে পারেন না।”
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ
কীর্তি আজাদ কংগ্রেসকে একহাত নিয়ে বলেন, “কংগ্রেসের দড়ি পুড়ে গেছে, কিন্তু তাদের অহংকার শেষ হয়নি। দিল্লিতে কংগ্রেস যদি কোনও ঝামেলা না করত, তাহলে AAP আরও বেশি আসন পেত। কিন্তু কংগ্রেস বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেছে।”
দিল্লি নির্বাচনে কংগ্রেস ১৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, কিন্তু কোনও আসনেই জিততে পারেনি। বরং এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে AAP-এর ভোট ভাগ হয়ে যায়, যা বিজেপির পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
বিহার নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ?
দিল্লি নির্বাচনের পর এখন বিহার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভাগলপুর সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল বিহারের ভোটেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, INDIA জোটে নেতৃত্ব বদলের দাবি আরও জোরদার হচ্ছে। কীর্তি আজাদের মতে, “হরিয়ানা হোক বা মহারাষ্ট্র, কংগ্রেস সর্বত্র ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের ভাবা উচিত, সত্যিই কি তারা জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জোটের ভবিষ্যৎ?
দিল্লি নির্বাচনের আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় INDIA জোটের নেতৃত্বে আসতে চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সময় লালু প্রসাদ যাদব, ওমর আবদুল্লাহ, শরদ পাওয়ার ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। দিল্লি নির্বাচনের ফলের পর সেই দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, “যদি INDIA জোটকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে হয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দৃঢ় নেতার নেতৃত্ব প্রয়োজন।” এখন দেখার, কংগ্রেস এই দাবি মেনে নেয় কি না, নাকি জোটে আরও বড় সংকট তৈরি হয়।