মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনই ঘটলো পথ দুর্ঘটনা, হাসপাতালে বসেই পরীক্ষা দুই পরীক্ষার্থীর

আজ থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও অভিভাবকরা। তবে এই পরীক্ষার প্রথম দিনেই ঘটে গেল এক দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা। মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার পথেই পথ দুর্ঘটনার শিকার হয় দুই পরীক্ষার্থী। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থানার জঙ্গলপুর এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। আহত অবস্থাতেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে হাসপাতালে, যাতে তারা মূল্যবান বছর নষ্ট না করে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গুমা নজরুল বালিকা বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী মোটরবাইকে করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল রাজীবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু যাওয়ার পথেই বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার ফলে তারা রাস্তায় ছিটকে পড়ে ও গুরুতর আহত হয়।

দ্রুত তাদের উদ্ধার করে অশোকনগর সব্দালপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত পরীক্ষার্থীদের চিকিৎসা করিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে হাসপাতালে বসেই তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছায় অশোকনগর থানার পুলিশ। তাদের তত্ত্বাবধানে দুই পরীক্ষার্থীর জন্য হাসপাতালে পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষার শেষে পুলিশই তাদের বাড়ি পৌঁছে দেবে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা প্রথমে কিছুটা ভয় পেলেও পরীক্ষায় বসতে পেরেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে প্রশংসার ঝড় উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

শুধু দুর্ঘটনায় আক্রান্ত পরীক্ষার্থীদের নয়, অন্য পরীক্ষার্থীদের সমস্যাতেও পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। কাঁকসার মলানদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড আনতে ভুলে যায়। হতাশ হয়ে পড়লে, কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার অমরনাথ মুখোপাধ্যায় মোটরবাইকে গিয়ে পরীক্ষার্থীর বাড়ি থেকে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে এসে দেয়।

একই ঘটনা ঘটে চণ্ডীপুর রাংসারা হাইস্কুলের সামনেও। এক পরীক্ষার্থী স্কুলের গেটের সামনে এসে দেখে, তার অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে নেই। দ্রুত ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ অফিসারদের জানানো হলে তারা বাড়ি থেকে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করে তাকে পৌঁছে দেন।

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তৎপরতায় কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষার সুযোগ হারায়নি। পুলিশের মানবিক উদ্যোগ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরীক্ষার্থীদের পরিবারও স্বস্তি পেয়েছে। রাজ্যজুড়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে নজরদারি চালানো হচ্ছে।