মানুষের বাড়িতে মাজতেন বাসন, আজ সেই গরীব দুলারী দেবীর শাড়ি পরেই বাজেট পেশ নির্মলার!

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন যখন ২০২৫-২৬ সালের বাজেট পেশ করতে উপস্থিত হন, তার পরনে ছিল এক বিশেষ শাড়ি—এটি কোনো নামী ডিজাইনারের তৈরি নয়। বরং, এই শাড়িটি তৈরি করেছেন একজন সাধারণ, কিন্তু প্রতিভাবান শিল্পী দুলারী দেবী, যিনি এই শাড়িটি নিজ হাতে নির্মলা সীতারমনকে উপহার দিয়েছেন।

নির্মলা সীতারমনের পরনে যে শাড়িটি ছিল, সেটি ছিল বিখ্যাত মধুবনী শিল্প দিয়ে সজ্জিত। মধুবনী শিল্প, যা বিহারের ঐতিহ্যবাহী একটি চিত্রশিল্প, তার এই শাড়িতে ফুটে উঠেছে ভারতের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। শাড়িটির উপহারদাতা দুলারী দেবী ২০২১ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন এবং তিনি একজন মধুবনী শিল্পী।

দুলারী দেবী একজন সাধারণ, গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা নারী। ছোটবেলায় তাঁর তেমন পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি এবং একসময় তিনি লোকের বাড়িতে কাজ করতেন, পরিচারিকা হিসেবে বাসন মাজতেন। তবে তাঁর স্বপ্ন এবং দক্ষতা কখনো হারিয়ে যায়নি। তিনি নিজের শিল্প, মধুবনী শিল্প, ধরে রেখেছিলেন এবং আজ সেই শিল্পের মাধ্যমে তিনি দেশের অন্যতম সম্মানিত শিল্পী হয়ে উঠেছেন।

নির্মলা সীতারমন ও দুলারী দেবীর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল মিথিলা আর্ট ইনস্টিটিউটে, যা বিহারের মধুবনীতে অবস্থিত। সেখানে তাঁরা মধুবনী শিল্প নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছিলেন। অর্থমন্ত্রীর ব্যবহার এবং শিল্পের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা দেখে দুলারী দেবী সীতারমনকে এই শাড়ি উপহার দেন। দুলারী দেবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে সীতারমন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাজেট পেশ করার সময় তিনি সবসময় এই শাড়ি পরবেন, যাতে মধুবনী শিল্পের ঐতিহ্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতির গুরুত্ব সবার কাছে পৌঁছায়।

এদিকে, নির্মলা সীতারমন বাজেট পেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি ভারতের প্রথম অর্থমন্ত্রী যিনি পরপর আটটি ইউনিয়ন বাজেট পেশ করেছেন। তার এই বিশেষ অর্জনের স্মৃতিচারণ করতে তিনি মধুবনী শিল্পের শাড়ি পরেছেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে আরও বেশি স্মরণীয় করে তুলেছে।

দুলারী দেবী ও নির্মলা সীতারমনের এই সম্পর্ক, যা শিল্প এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা দেশবাসীকে এক নতুন অনুপ্রেরণা দিয়েছে—যেখানে সাধারণ জীবনযাপন থেকে শুরু করে উচ্চ সম্মানে পৌঁছানো সম্ভব।