CBI -কে শোকজ করলো আদালত, সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে কী তথ্য গোপন তদন্তকারীদের?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা খেল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিককে শোকজ করল আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালত। অভিযোগ, রাজ্য সরকার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের অনুমতি দিলেও, তা আদালতকে না জানিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে মামলা করেছে সিবিআই।
সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি জানান—
“প্রথম থেকেই সিবিআই অসহযোগিতা করছে। ২৭ জানুয়ারি চার্জ গঠনের অনুমতি পেয়েও ট্রায়াল কোর্টকে কিছুই জানানো হয়নি।”
এই অভিযোগ শুনে বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সিবিআইকে প্রশ্ন করেন—
“হাইকোর্ট জানতে পারল অথচ ট্রায়াল কোর্ট জানল না? ট্রায়াল কোর্টকে এড়িয়ে হাইকোর্টে যাচ্ছেন?”
এরপর আদালত সিবিআই তদন্তকারী আধিকারিক মণীশ উপাধ্যায়কে নির্দেশ দেয়, শুক্রবারের মধ্যে চার্জগঠনের সমস্ত নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, আগামী সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে হবে।
আরজি কর কাণ্ড: কী হয়েছিল?
২০২3 সালের ৯ আগস্ট, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ। অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়।
প্রথমে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও ৫ দিন পর হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার পায় সিবিআই।তদন্তে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের নাম।
এরপর, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেফতার করে সিবিআই। তবে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট এখনও জমা দিতে পারেনি সংস্থা।
ঘটনার ১৬২ দিনের মাথায়, সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত। তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা না দেওয়ায় আগেই চাপে ছিল সিবিআই। এবার আলিপুর আদালতের শোকজের নির্দেশ তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী শুনানিগুলি এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।