BigNews: বাংলাদেশে রেলকর্মীদের ধর্মঘটের জের, গোটা দেশে স্তব্ধ হয়ে গেলো ট্রেন চলাচল

বাংলাদেশে সোমবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের ডাকা কর্মবিরতির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় কর্মীরা এই কর্মবিরতিতে নেমেছেন।
রেলওয়ে গার্ডস কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। “আমাদের কর্মসূচি চলবে, যতক্ষণ না আমাদের সমস্যাগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমাধান করবে,” বলেন তিনি।
এই কর্মবিরতির ফলে সোমবার সকাল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলো থেকে কোনও ট্রেন ছেড়ে যায়নি। তবে, ২৭ জানুয়ারি রাত ১২টার আগে যেসব ট্রেন স্টেশন থেকে ছেড়েছিল, সেগুলো মঙ্গলবার তাদের গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
রেলপথ মন্ত্রক মঙ্গলবার সকালে জানায়, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেওয়া হবে। মন্ত্রকের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের দাবি অনেকাংশে মেনে নেওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি। তাই আজ ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।”
রানিং স্টাফরা দীর্ঘদিন ধরে মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রক এই সুবিধা সীমিত করে দেয়, যার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হন। গত বুধবার চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে তাদের দাবির সমাধান না হলে ২৮ জানুয়ারি থেকে রেল চলাচল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তারা।
এই কর্মবিরতির ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে, কারণ বহু মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে ট্রেন ব্যবহার করেন। রেলপথ মন্ত্রক আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে, তবে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।