ব্যবসায়ী অপহরণ দুর্গাপুরে,পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দুই বি-টেক ডিগ্রিধারী

পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ থানার পুলিশ ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে দুইজন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া এবং একজন বি-টেক পাস বলে জানা গেছে। অপহরণের ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা ব্যবসায়ী জয়ন্ত গড়াইকে অপহরণ করে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছিলেন।

সোমবার সকালে ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের চার দিনের জন্য জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জন হলেন: অভিজিৎ চক্রবর্তী, সুপ্রিয় খাওয়াস, সঞ্জীব বিশ্বাস, সোহম চট্টোপাধ্যায় এবং বিমলেশ কুমার ঠাকুর। এঁদের সকলের বাড়ি কাঁকসা এবং দুর্গাপুরে।

অপহরণের ছক এবং চক্রের সদস্যরা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিয় এবং সোহমের মধ্যে নেশা করার অভ্যাস ছিল এবং নেশাদ্রব্য জোগাড় করতে তাঁরা এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। সুপ্রিয়, যিনি এক সময় একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি-টেক করেছেন, আগে ইসিএল–এ চাকরি করতেন। অন্যদিকে, সোহম এখন একটি বেসরকারি কলেজে এম-টেক করছেন।

অপহরণের পরিকল্পনা শুরু হয় বিমলেশের মাধ্যমে, যিনি জয়ন্ত গড়াইয়ের কাছ থেকে একসময় চাকরি করতেন এবং কিছুদিন আগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। বিমলেশ সঞ্জীবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অপহরণের পরিকল্পনা আঁকেন। তবে অপহরণের সময় বিমলেশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

নেশার নেশায় অপহরণ

পুলিশ জানায়, সঞ্জীবের কাছে গাড়ি ছিল না, তাই তিনি প্রথমে সুপ্রিয়ের সাহায্য নেন। সুপ্রিয় গাড়ি এবং চালক অভিজিৎকে জোগাড় করেন, আর সুপ্রিয়র মাধ্যমেই সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকার বিনিময়ে সোহমও অপহরণে যোগ দেন।

অস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত

আবিষেক গুপ্তা, ডিসি (পূর্ব), আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, জানিয়েছেন যে ধৃতদের কাছ থেকে এক লক্ষেরও বেশি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, একটি আগ্নেয়াস্ত্র, দু’টি ম্যাগজ়িন, চার রাউন্ড কার্তুজ এবং একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের জন্য ব্যবহৃত গাড়িটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

এমন একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, এবং পুলিশ আশঙ্কা করছে, নেশার কারণে এমন অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।