বন্ধ অনলাইন বুকিং, জঙ্গলে ঢুকতে গেলে নয়া কি কি নিয়ম? জেনেনিন বিস্তারিত

সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তরবঙ্গের সংরক্ষিত জঙ্গলগুলিতে প্রবেশের জন্য সব ধরনের ফি মকুব করা হবে। তবে, এই ঘোষণা নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি উত্তরবঙ্গের এই জঙ্গলগুলিতে প্রবেশ অবারিত হয়ে যাবে?

এই সংশয় দূর করতে সোমবার বন দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, উত্তরবঙ্গের সংরক্ষিত জঙ্গলগুলিতে প্রবেশ করতে হলে পর্যটকদের বাধ্যতামূলকভাবে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি, বন দপ্তরের নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে এন্ট্রি পাস সংগ্রহ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পর্যটকদের নির্দিষ্ট বন দপ্তরের অনুমোদিত সাফারি গাড়িতে চড়তে হবে, এবং সাফারি চলাকালীন গাইডের সাহায্য নিতে হবে। সাফারি গাড়ির ভাড়া ও গাইডদের মজুরি সরাসরি পর্যটকরা সংশ্লিষ্ট জিপসি চালক ও গাইডের কাছে প্রদান করবেন। তবে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, দালাল বা এজেন্টের মাধ্যমে কোনো বুকিং করা যাবে না, এবং অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই নতুন নিয়ম মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হবে।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পদক্ষেপ

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গের সংরক্ষিত জঙ্গলগুলিতে প্রবেশের ফি মকুব করার ফলে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পর্যটকদের অতিরিক্ত আগমন এবং এন্ট্রি ফি না থাকায় বন দপ্তর জঙ্গলে কতজন পর্যটক প্রবেশ করেছেন তা নির্ধারণ করতে পারছিল না। এতে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়, এবং চোরাশিকারিরা অবাধে জঙ্গলে প্রবেশ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

বন দপ্তরের নতুন বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়মাবলীর মাধ্যমে এই সমস্ত সংশয় দূর করা সম্ভব হয়েছে, বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ী ও বনকর্তারা।

জলদাপাড়া বনবিভাগের অনলাইন বুকিং স্থগিত

এছাড়া, জলদাপাড়া বনবিভাগ ২৭ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনলাইন বুকিং বন্ধ করার ঘোষণা করেছে। এখন থেকে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে হাতি বা জিপসি সাফারি করতে গেলে পর্যটকদের আগে আসতে হবে এবং বন দপ্তরের নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাফারি টোকেন সংগ্রহ করতে হবে।

জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেছেন, “যেহেতু আমরা সরাসরি পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে পারছি না, তাই আপাতত অনলাইন বুকিং পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশয়ের মেঘ কেটে গেছে এবং জঙ্গলগুলিতে পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর ও স্বচ্ছ হবে বলে আশাবাদী বন দপ্তর এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।