আপের পাশে তৃণমূল, পাল্টা ব্যাট ধরল বিজেপি! দিল্লির ময়দানেও মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু?

দিল্লির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এবার দিল্লির রাজনৈতিক ময়দানে সরাসরি মুখোমুখি হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি। রাজ্য থেকে এবার রাজধানীর রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেছে বাংলার দুই শিবির।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ রাজধানীতে পৌঁছাবেন বিজেপির প্রচারে অংশ নিতে। দিল্লিতে বিজেপি প্রার্থী দুষ্মন্ত গৌতমের হয়ে প্রচার চালাবেন তিনি। ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও দিল্লিতে গিয়ে দলের প্রচারে অংশ নিয়েছেন। শুভেন্দুর এই প্রচার রাজ্যের বাইরে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকে বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

শুধু বিজেপি নয়, দিল্লির ময়দানে এবার তৃণমূলও সরব। তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা আগামী মাসের ১ ও ২ তারিখ দিল্লিতে আপের সমর্থনে প্রচারে নামবেন। তিনি আপ প্রার্থী অরবিন্দ কেজরীবাল এবং কালকাজি কেন্দ্রের প্রার্থী অতিশি মারলেনার হয়ে প্রচার চালাবেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, রাজধানীতে পূর্বাঞ্চলীয় ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই ‘বিহারি বাবু’-কে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির নির্বাচনে আপের সমর্থনে শুধুমাত্র তৃণমূল নয়, যোগ দিতে পারে উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টিও। সপা প্রধান অখিলেশ যাদবেরও খুব শীঘ্রই দিল্লিতে আপের প্রচারে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সমীকরণে কংগ্রেসের অনুপস্থিতি স্পষ্ট।

ইন্ডিয়া জোটে থাকা সত্ত্বেও দিল্লির নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রভাব নেই বললেই চলে। বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকে আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন কমতে শুরু করেছে। তৃণমূলই প্রথম দল, যারা ইন্ডিয়া জোটে থেকেও কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী সমঝোতা করেনি। এবার দিল্লির নির্বাচনে সেই বিরোধী সুর আরও জোরালো করতে চলেছে তৃণমূল।

দিল্লির ময়দানে মমতা বনাম শুভেন্দুর এই লড়াই শুধু ভোটের কৌশল নয়, এটি জাতীয় রাজনীতিতে দুই শিবিরের অবস্থানকেও তুলে ধরবে। বাংলার দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর এই সরাসরি লড়াই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।