কীসের টানে বাঘ এসেছে বাঁকুড়ায়? কারণ জানতেই বাঘকে বন্দি না করার সিদ্ধান্ত নিলো বনদফতর

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলমহলে বাঘের পুনঃপুন আগমন এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। গত এক মাসে তিনবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার সীমান্তবর্তী জঙ্গলগুলিতে বাঘের আনাগোনা দেখা গিয়েছে। বন দফতরের দাবি, এসব অঞ্চলের জঙ্গলগুলি বাঘের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে।
বন দফতরের মতে, মধ্য ভারতের জঙ্গলগুলির মতোই জঙ্গলমহলের জঙ্গলে বাঘের জন্য যথেষ্ট উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এখানে রয়েছে প্রচুর ঝোরা, বুনো শূকর, হরিণ এবং অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণী, যা বাঘের খাদ্যের প্রয়োজন মেটায়। এছাড়া ঘন জঙ্গল থাকার কারণে নিরিবিলি পরিবেশে বসবাসের সুবিধাও রয়েছে।
২০১৮ সালে বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে বাঘের উপস্থিতি শেষবার দেখা গিয়েছিল। তবে সেই বাঘটি মানুষের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে পালিয়ে আসা বাঘিনি জিনাত ধরা পড়ে বন দফতরের হাতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাঁকুড়ার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁকুড়ার বর্তমান বাঘটি এখনও পর্যন্ত মানুষের কোনো ক্ষতি করেনি বা লোকালয়ে ঢোকেনি। বরং মানুষের উপস্থিতি বুঝতে পারলেই সে জঙ্গলে গা ঢাকা দিচ্ছে। রেডিও কলার না থাকার কারণে বাঘটিকে নজরবন্দি রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বন দফতরের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনই বাঘটিকে বন্দি করার পরিকল্পনা নেই। বরং তার গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাঘ এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বন দফতরের মূল লক্ষ্য।
বারবার পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলে বাঘের আগমন একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে—এই জঙ্গলগুলি কি বাঘের স্থায়ী বাসস্থানের উপযুক্ত হতে পারে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্য, জল এবং আশ্রয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলে বাঘ এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে।
যদিও বাঘ মানুষের উপর আক্রমণ করেনি, তবু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। বন দফতর মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং বাঘটিকে বিরক্ত না করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বন দফতরের দাবি, বাঘের নিরাপত্তা ও মানুষের সহাবস্থানের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আপাতত নজরদারি চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে জঙ্গলমহলে বাঘের উপস্থিতি এ অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
জঙ্গলমহলে বাঘের পুনরায় আগমনের এই ঘটনা কেবল একটি নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিতই দিচ্ছে না, বরং রাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনাও করছে।