“আমেরিকার ‘অবৈধ’ ভারতীয়দের ভবিষ্যত্ কী?”-ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ভার’ চাপালেন মোদীর উপরেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অবৈধ অভিবাসন’ রোধে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বহিষ্কার কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮,০০০ ভারতীয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যারা দেশে ফিরে যাবেন, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।” সোমবার মোদীর সঙ্গে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপচারিতার পরই এই মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত-মার্কিন আলোচনা এবং বহিষ্কারের প্রস্তুতি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক বৈঠকে এই ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বৈধ অভিবাসনকে সব সময় সমর্থন করে। অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ অভিবাসন শুধুমাত্র আইনি সমস্যাই নয়, বরং এর ফলে অন্যান্য অনেক অবৈধ কার্যকলাপও সংঘটিত হয়। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: যদি কোনও ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বিদেশে বসবাস করেন, তবে প্রমাণ মিললে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
আইটি কর্মীদের নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ এইচ-১বি ভিসাধারীই ভারতীয় আইটি কর্মী। দক্ষ কর্মীদের বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আপত্তি নেই। তবে, তিনি এও জানিয়েছেন, ভিসা সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকারক।
জয়শঙ্কর বলেন, “যদি মার্কিন ভিসা পেতে ৪০০ দিনেরও বেশি সময় লাগে, তা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এই সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।”
উচ্চ শুল্ক ও বাণিজ্য নীতি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প ভারতসহ চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্ক আরোপের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, “এই দেশগুলো আমেরিকার উপর অত্যধিক শুল্ক আরোপ করছে। আমরা আর এটা হতে দেব না। আমেরিকার জনগণের স্বার্থই আমাদের অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলিকে দেশে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং আমেরিকা আরও শক্তিশালী হয়।”
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক: ভবিষ্যৎ কী?
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ট্রাম্প ও মোদীর সম্পর্ক ইতিবাচক, তবে শুল্ক, ভিসা, এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নীতির ফলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
সময়ই বলবে, এই পদক্ষেপগুলি উভয় দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে। তবে, অভিবাসন নীতি এবং শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।