OMG! দুই মহিলার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, অত্যাচারী স্বামীদের ছেড়ে মন্দিরে করলেন বিয়ে

নিত্যদিনের অশান্তি, মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার আর সমাজের কুনজরে বিতশ্রদ্ধ দুই মহিলা অবশেষে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন। উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলায় গোরক্ষপুরের বাসিন্দা এই দুই নারী মন্দিরে গিয়ে একে অপরকে বিয়ে করে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাদের এই পদক্ষেপ নারী নির্যাতন ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ওই দুই মহিলার স্বামীই নিয়মিত মদ্যপান করতেন এবং মদ্যপ অবস্থায় তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পাড়ায় তাদের এই অবস্থার কথা জানাজানি হলে পরপুরুষেরাও তাদের উত্যক্ত করত। দিনের পর দিন এই অসহনীয় পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে তারা চরম পথ বেছে নেন।
স্বামীর অত্যাচারের কথা বলতে বলতেই একসময় তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপরই তারা স্বামীদের ছেড়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ, স্থানীয় দুগেশ্বর নাথের মন্দিরে গিয়ে তারা অগ্নিসাক্ষী রেখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শুধু তাই নয়, সমাজের চোখে নিজেদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে তারা নিজেদের নামও পরিবর্তন করেছেন। একজন মহিলা নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন গুঞ্জা এবং অন্যজন বাবলু।
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন এই দুই মহিলার সাহসীকতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকে, তেমনই অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিত্রও আরও একবার প্রকট হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আজও সমাজের বহু নারী নীরবে অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। এই দুই মহিলার পদক্ষেপ হয়তো আরও অনেক নারীকে তাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে উৎসাহিত করবে।