OMG! অজানা উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু, নমুনায় বিষের হদিশ, আতঙ্ক কাশ্মীরের এই গ্রামে?

জম্মু-কাশ্মীরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম বাধালে এক রহস্যজনক রোগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা, বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছু পরেই তাঁদের মৃত্যু হয়। সোমবার পর্যন্ত এই উপসর্গ নিয়ে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যেকেই বাধাল গ্রামের বাসিন্দা। চিকিৎসকরা এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর আসল কারণ বা রোগের উৎস নির্ণয় করতে পারেননি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন এই একই উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। রবিবার সেই দলটি কাশ্মীরের রাজৌরিতে পৌঁছায়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই দিনই আরও একজনের মৃত্যু হয়।
পাহাড়ে ঘেরা বাধাল গ্রামটি শহরের মূল কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর স্বাস্থ্য দপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি এই মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জোর কদমে কাজ করছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, এলাকার একটি জলের উৎস থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই জলের উৎসের চারপাশে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজৌরির সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল এ এস ভাটিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি সাধারণ উপসর্গ দেখা গেছে—তাঁদের সকলেরই মস্তিষ্ক প্রদাহ বা ইডিমা ছিল।
এ এস ভাটিয়া আরও জানান, ব্রেন ড্যামেজের কারণ অনুসন্ধানের জন্য যে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে নমুনায় নিউরোটক্সিন নামক বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গ্রাম থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলি ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ কন্ট্রোল এবং পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি, কিন্তু নিউরোটক্সিন পাওয়া গেছে।
নিউরোটক্সিন প্রাকৃতিকভাবে এবং কৃত্রিমভাবে উভয়ভাবেই পাওয়া যেতে পারে। সাপ ও বিচ্ছুর বিষে, কিছু ব্যাকটেরিয়ায় এবং কিছু গাছের বিষে প্রাকৃতিকভাবে নিউরোটক্সিন থাকে। অন্যদিকে, সার ও রাসায়নিক পদার্থেও কৃত্রিম নিউরোটক্সিন থাকতে পারে। এই বিষ স্নায়ুতন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই নিউরোটক্সিনের উৎস এবং কীভাবে তা গ্রামবাসীদের মধ্যে ছড়াল, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।