‘ব্ল্যাক লিস্টে’-থাকা স্যালাইন শরীরে যেতেই রোগীর মৃত্যু, মেডিক্যাল কলেজের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, স্যালাইনের গুণগত মান নিয়ে। এই ঘটনার তদন্তে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসেছেন এবং স্বাস্থ্য ভবন থেকেও একটি তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে।

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিম্নমানের স্যালাইনের কারণেই প্রসূতিদের এই অবস্থা হয়েছে। অধ্যক্ষের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে অভিযুক্ত সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এবং যেখানে যেখানে এই স্যালাইন মজুত আছে, তা ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হল, যে স্যালাইন মেদিনীপুর মেডিক্যালে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি এর আগেই কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে একই স্যালাইনের কারণে কর্ণাটকে চারজন প্রসূতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। এই তথ্য রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কিভাবে এই স্যালাইন মেদিনীপুর মেডিক্যালে ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য ভবন পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে এবং শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল মৌসুমী নন্দ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বিশিষ্ট চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, স্যালাইন দেওয়ার পর জ্বর ও কাঁপুনি হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়, কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের এ বিষয়ে কোনো চিন্তা নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কাজলকৃষ্ণ বণিক বলেছেন, স্যালাইন বিশুদ্ধ কিনা তা খালি চোখে বোঝা যায় না। তাই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত।