২৫ ডিসেম্বরের আগে কি চালু হবে সেন্ট ওলাভ চার্চের ঘড়ি? মুখ খুললেন চার্চ কর্তৃপক্ষ

বড়দিনের প্রাক্কালে সেজে উঠেছে হুগলি জেলার বিভিন্ন চার্চ। আলোয় ঝলমল করছে শ্রীরামপুরের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট ওলাভ চার্চও। কিন্তু উৎসবের আগেই বেসুরো বাজনা, বন্ধ হয়ে গিয়েছে চার্চের মাথায় লাগানো শতাব্দী প্রাচীন ঘড়িটি। ঘড়িটি পুনরায় চালুর জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষ ও শ্রীরামপুর পুরসভা উভয়েই তৎপর। তবে বড়দিনের আগে ঘড়িটি সারানো সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

শ্রীরামপুরের সেন্ট ওলাভ চার্চে বড়দিন উপলক্ষে ১২ দিন ব্যাপী এক বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়, যার উদ্বোধন করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চার্চের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এর মাথায় থাকা ঘড়িটি। কিন্তু বর্তমানে ঘড়ির কাঁটা ৪টা বেজে ১০ মিনিটে থমকে আছে। চার্চ আলোয় সেজে উঠলেও, বড়দিনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেলেও, ঘড়িটি কবে সচল হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

চার্চের ফাদার অনুপ মণ্ডল জানান, চার্চের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ডায়োসিস। ঘড়িটিতে দম দেওয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে তিন হাজার টাকা খরচ হয় এবং কলকাতা থেকে একজন বিশেষজ্ঞ আসেন। ঘড়িটি দু-তিন মাস ধরে বন্ধ আছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে বড়দিনের আগে ঘড়িটি চালু করা যাবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, ‘এই ঘড়ির সঙ্গে আমাদের শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ঘড়িটি যাতে দ্রুত সারানো যায়, সে বিষয়ে চার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

চার্চের সেক্রেটারি সুনীল কুমার দাস জানান, ইতিমধ্যেই টেকনিশিয়ানদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁদের পরিদর্শনের পরেই পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

উৎসবের মুখে চার্চের এই ঐতিহ্যপূর্ণ ঘড়িটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরবাসীর মন খারাপ। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা ও অধ্যাপক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ‘এই ঘড়িটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং চার্চের অমূল্য সম্পদ। আমরা ছোটবেলায় এই চার্চের ঘড়ির ঘণ্টা শুনতে পেতাম। আশা করি চার্চ কর্তৃপক্ষ দ্রুত এটি সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে, শ্রীরামপুরের সেন্ট ওলাভ চার্চের ঘড়িটি শুধু একটি সময় নির্ণায়ক যন্ত্র নয়, এটি শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বড়দিনের আগে এর পুনঃস্থাপন শহরবাসীর জন্য একটি বড় উপহার হতে পারত।