বেইমানির নজির! বাংলাদেশে জামাতের প্রবল চাপেই কি এইসব করছেন মোহাম্মদ ইউনূস

৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর, ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিত সিং অরোরার কাছে পাকিস্তানী লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ‘অ্যাড্রেস টু দ্য নেশন’ (জাতির উদ্দেশে ভাষণ)-এ ভারতের অবদানের কথা উল্লেখ করা একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এই বছর তার ব্যতিক্রম দেখা গেল। মহম্মদ ইউনূস তাঁর বিজয় দিবসের ভাষণে একবারের জন্যও ভারতের নাম উচ্চারণ করেননি।
ইউনূসের ভাষণের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা। তিনি একবার শুধু বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের কোনো ভয় নেই।’ তবে বাস্তবে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি ভিন্ন, এমনটাই প্রতীয়মান হয়। ইউনূস হাসিনাকে ‘পৃথিবীর ঘৃণ্যতম স্বৈরাচারী শাসক’ বলেও অভিহিত করেন। হাসিনা এর প্রত্যুত্তরে বলেন, “মহম্মদ ইউনূসের ফ্যাসিস্ট সরকারের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিন্দুমাত্র সংবেদনশীলতা নেই।”
ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের সময় ইউনূস প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে বাংলাদেশের সরকারের সমালোচনা করছেন এবং দিল্লি যেন তাকে থামিয়ে দেয়। জবাবে বিক্রম মিশ্রি জানিয়ে দেন যে হাসিনা ভারতের অতিথি এবং ভারত কখনও অতিথির মুখ বন্ধ করতে বলে না। হাসিনার সর্বশেষ বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে ঢাকার চাপ সাউথ ব্লককে প্রভাবিত করতে পারেনি।
ইউনূস তার ভাষণে ভারতের নাম না নিলেও, ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নিহত বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গও এড়িয়ে যান। ১৯৭১ সালের মার্চে অপারেশন সার্চলাইট ও ১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তান বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা করে। ১৪ই ডিসেম্বরের রাতে অসংখ্য শিল্পী, শিক্ষক, অধ্যাপক, ডাক্তার, অভিনেতা, লেখক ও রাজনৈতিক নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানী বাহিনী।
এই হত্যাকাণ্ডে জামাত-ই-ইসলামীর নেতাকর্মীরা পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তা করেছিল। বর্তমানে ইউনূসের উপর জামাতের প্রভাব থাকার কারণে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করেননি, এমন অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই বছর বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’-এর অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
জামাতের কিছু সদস্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে ‘সেদিন ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা না হলে তারা ২০২৪ সালেও স্বাধীনতা পেত না।’ কেউ আবার বলেন, ‘ভারত নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করেনি, বরং বাংলাদেশকে শোষণ করতে চেয়েছিল।’
এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ইউনূসের ভাষণ, হাসিনার প্রতিক্রিয়া, ভারতের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরবতা—সব মিলিয়ে বিজয় দিবসের তাৎপর্য ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।