মাধ্যমিকের আগে পর্ষদের টেস্ট পেপার পেতে কেন হয় দেরি? জেনেনিন সেই কারণ?

মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা ৩০ নভেম্বর শেষ হয়েছে এবং ফলও প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা এখন পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। কিন্তু ঝাড়গ্রামের প্রিয়া মাহাতোর মতো অনেক শিক্ষার্থীর মনেই প্রশ্ন, প্রস্তুতি শুরু করবে কিভাবে? স্কুল থেকে বলা হয়েছিল টেস্টের পরেই টেস্ট পেপার দেওয়া হবে, শোনা গিয়েছিল ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তা স্কুলে চলে আসবে। কিন্তু সেই তারিখ পেরিয়ে গেলেও টেস্ট পেপারের দেখা নেই। দিনমজুর বাবা ও পরিচারিকা মায়ের পক্ষে মেয়ের জন্য আলাদা করে টেস্ট পেপার কিনে দেওয়াও সম্ভব নয়। প্রিয়ার মত একই অবস্থা আরও হাজার হাজার দরিদ্র মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর।

গত বছরও মাধ্যমিকের আগে টেস্ট পেপার পেতে যথেষ্ট দেরি হয়েছিল। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হলেও, অনেক স্কুলে জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে টেস্ট পেপার পৌঁছায়। ফলে, অনেক শিক্ষার্থীই তা সংগ্রহ করেনি, অনুশীলন করা তো দূরের কথা।

এই বছরও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। HT বাংলা এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে টেস্ট পেপার বিতরণে বিলম্বের কারণ।

কেন এই বিলম্ব?

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, টেস্ট পেপার বিতরণে বিলম্বের কয়েকটি প্রধান কারণ হল:

স্কুল থেকে প্রশ্নপত্র পাঠাতে দেরি: মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল যে বিভিন্ন স্কুলের তরফে যে প্রশ্নপত্র পাঠানোর কথা, তা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায়নি। কিছু কিছু স্কুলের তরফে নিয়ম অনুযায়ী ইমেল মারফত প্রশ্নপত্র পাঠানোর কথা থাকলেও, সেখানে ত্রুটি থাকার কারণে পুনরায় প্রশ্নপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

টেস্ট পেপার ছাপানো ও বিতরণে সময়ক্ষেপণ: প্রায় সাড়ে ১০ লাখ কপির বেশি টেস্ট পেপার ছাপানোর কাজ সময়সাপেক্ষ। এরপর তা জেলায় জেলায় পৌঁছানো এবং স্কুলগুলোতে বিতরণের ক্ষেত্রেও সময় লাগে।

পর্যাপ্ত সময়ের অভাব: অনেক শিক্ষক সংগঠনের মতে, পর্ষদ যদি আরও আগে টেস্ট পেপার প্রকাশ করত, তাহলে জেলা পর্যায়ে বিতরণের সুবিধা হত এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে যথেষ্ট সময় পেত। গত বছর ১৯শে ডিসেম্বর টেস্ট পেপার প্রকাশিত হয়েছিল, যা পরীক্ষার ঠিক আগে।

অর্থের অপচয়: শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মতে, পরীক্ষার ঠিক আগে টেস্ট পেপার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হয় না। অথচ পর্ষদের লক্ষ লক্ষ টাকা এই টেস্ট পেপার তৈরিতে খরচ হয়। তিনি সময়মতো টেস্ট পেপার প্রকাশ করে এই অপচয় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিলম্বের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রিয়াদের মতো দরিদ্র শিক্ষার্থীরা, যাদের আলাদা করে টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্য নেই। সময় মতো টেস্ট পেপার না পাওয়ায় তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা সময় মতো তাদের টেস্ট পেপার হাতে পায় এবং ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে।