“আমার মা-বাবা-স্ত্রীকে গালিগালাজ করেছেন অভিজিৎ”-ওয়াকফ অশান্তি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন কল্যাণ

ওয়াকফ (সংশোধন) বিল নিয়ে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) বৈঠকে গত কয়েকদিন ধরে তুমুল বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কে সাম্প্রতিকতম ঘটনা হল, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের করা গুরুতর অভিযোগ।
দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের প্রশাসক আইএএস অশ্বিনী কুমার ওয়াকফ বিলের সংশোধনীগুলিকে সমর্থন করেছেন।বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ওয়াকফ বোর্ডের প্রশাসক মুসলিম হওয়া উচিত এবং একজন অমুসলিম এই বিষয়ে মতামত দিতে পারেন না।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে, তাঁর বাবা-মাকে এবং স্ত্রীকে গালিগালাজ করেছেন। আমি এই আচরণে হতাশ ছিলাম। তারপর, আমি (কাচের) বোতলটি টেবিলের উপর ছুড়ে মারলাম। তিনি আরও বলেন, আমি কখনই স্পিকারের দিকে বোতল নিক্ষেপ করতে চাইনি। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের কোনও ক্ষমতা নেই মেম্বারকে সাসপেন্ড করার। একমাত্র স্পিকার এটা করতে পারেন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায় কলকাতা হাইকোর্টের পচা অ্য়াডভোকেট।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেন যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আইনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেদিন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন সাংবাদিকদের সামনে। মূলত আইন ভাঙা নিয়ে। সেদিন প্রথমে নাসির ও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্য়ে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। এরপর তিনি আমাকে হেনস্থা করা শুরু করলেন। আমাকে, আমার মাকে, আমার বাবাকে, আমার স্ত্রীকে..। সেই সময় চেয়ারম্যান ছিলেন না।
কেন এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ?
এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বিলের সংশোধনী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে।সাংসদদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এই বিষয়টি ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে জড়িত।
ওয়াকফ বিল নিয়ে জেপিসি বৈঠকে ঘটা এই ঘটনা রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি যে, রাজনীতিতে মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তা যেন সহিংসতায় পরিণত না হয়।