“যা ইচ্ছে তা করতে পারে”-ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে মুখ খুললেন পুতিন

চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়ার সেনা ব্যবহার করবে কিনা, এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি আরো বলেন, ইউক্রেন যদি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়, তাহলে মস্কো তার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যা ইচ্ছে তা করতে পারে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, যখন আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা নেব। তবে এটি আমাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, আমরা এটি প্রয়োগ করব কি করব না, আমাদের প্রয়োজন কি না, এটি আমাদের বিষয়।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের হাতে প্রমাণ আছে যে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় ৩ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে। তাদের ইউক্রেনে মোতায়েন করা হতে পারে। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে পশ্চিমা দেশগুলো।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার প্রথম ইউনিট সেনা রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ শেষে ইতিমধ্যেই দেশটির সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে এই অঞ্চলে ঢুকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বড় একটি অংশ দখল করে করে নিয়েছিল।
পুতিন আরও বলেন, পশ্চিমারা বারবার বলেছে ইউক্রেনের কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এটা তাদের বিষয়। ন্যাটোসহ নাকি ন্যাটো ছাড়া। তারা যত দ্রুত বুঝতে পারবে যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের পদ্ধতি অকার্যকর, ততই সবার জন্য ভাল হবে। সম্ভবত তাদের নিজেদের জন্য।
গত জুন মাসে পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের সময় পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির চার নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনো একটি পক্ষ কোনো রাষ্ট্র বা একাধিক রাষ্ট্র দ্বারা সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হয় এবং এইভাবে নিজেকে যুদ্ধের অবস্থায় দেখতে পায়, তবে অন্য পক্ষ অবিলম্বে সব উপায়ে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করবে।
সূত্র: রয়টার্স