বিদেশি সম্পত্তি গোপন রেখেছেন? ছোট করদাতাদের জন্য বড় সুযোগ দিল মোদী সরকার, জানুন নিয়ম

বিদেশে অঘোষিত সম্পদ ও আয়ের তথ্য প্রকাশের সুযোগ: ছোট করদাতাদের জন্য নতুন প্রকল্প আনল কেন্দ্র

বিদেশে থাকা অঘোষিত সম্পদ বা আয়ের তথ্য স্বচ্ছভাবে সামনে আনতে ছোট করদাতাদের জন্য একটি নতুন স্বেচ্ছামূলক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আয়কর দপ্তরের তরফে ‘ফরেন অ্যাসেটস অফ স্মল ট্যাক্সপেয়ার্স ডিসক্লোজার স্কিম’ (FAST-DS)-এর নিয়ম ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী ১৬ অগস্ট ২০২৬ থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হতে চলেছে এবং অনলাইনে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত declarations বা ঘোষণার সুযোগ থাকবে।

কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সেই সমস্ত করদাতাদের আইনি সুরক্ষা এবং সুযোগ প্রদান, যাঁরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে বিদেশে থাকা নির্দিষ্ট সম্পদ কিংবা আয় আয়কর রিটার্নে ঘোষণা করতে পারেননি। বিশেষ করে প্রবাসী ছাত্রছাত্রী, তরুণ পেশাজীবী, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত কর্মী (যেমন ESOP বা RSU হোল্ডার) এবং বিদেশে থেকে ভারতে ফিরে আসা অনাবাসী ভারতীয়দের (Returning NRIs) কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কর ও শুল্কের কাঠামো

এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য করদাতাদের মূলত দু’ধরণের ঘোষণার সুযোগ দেওয়া হয়েছে:

  • প্রথম ক্ষেত্র: যে সমস্ত বিদেশি সম্পদ বা বিদেশি আয় আগে কখনও করের আওতায় আনা হয়নি, তার মোট মূল্য ১ কোটি টাকার বেশি হওয়া যাবে না। এই ধরণের অঘোষিত সম্পদ বা আয়ের মূল্যের উপর ৩০ শতাংশ কর এবং তার সঙ্গে সমপরিমাণ (১০০%) অতিরিক্ত অর্থ বা পেনাল্টি দিতে হবে। ফলে কার্যকর মোট করের হার দাঁড়াবে ৬০ শতাংশ। এক্ষেত্রে সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্য ৩১ মার্চ ২০২৬-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কারো ৬০ লক্ষ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ২০ লক্ষ টাকার বিদেশি আয় থাকলে, মোট ৮০ লক্ষ টাকার উপর ৬০ শতাংশ হারে মোট ৪৮ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে।

  • দ্বিতীয় ক্ষেত্র: যে সমস্ত বিদেশি সম্পদ কর দেওয়া আয়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছিল অথবা যখন কেনা হয়েছিল তখন করদাতা অনাবাসী (NRI) ছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট রিটার্নের নির্দিষ্ট সিডিউলে (Schedule FA) তার উল্লেখ করা হয়নি। এই ধরণের ক্ষেত্রে সম্পদের মূল্যসীমা ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। এর জন্য মাত্র ১ লক্ষ টাকার একটি ফ্ল্যাট ফি বা ফি জমা দিতে হবে।

আইনি সুরক্ষার সুযোগ

এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্ধারিত নিয়ম মেনে বৈধভাবে অঘোষিত সম্পদ ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট আয় বা সম্পত্তির ক্ষেত্রে পরবর্তী অতিরিক্ত কর, জরিমানা এবং ব্ল্যাক মানি অ্যাক্ট-এর (Black Money Act) অধীনে কঠোর আইনি মামলা বা শাস্তির হাত থেকে নির্দিষ্ট সুরক্ষা মিলবে। তবে পেমেন্ট বা অন্যান্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে আয়কর দপ্তরের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত সাপেক্ষে এই সুযোগ নিতে পারবেন করদাতারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *