“দেশে নগদ লেনদেন কমছে”-লেনদেনে ক্রমশ বাড়ছে UPI এর ব্যবহার

কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও নগদ লেনদেন এখনও প্রধান লেনদেনের মাধ্যম, তবে ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
কী বলছে রিপোর্ট?
“ক্যাশ ইউজেজ ইন্ডিকেটর অব ইন্ডিয়া” শীর্ষক একটি রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২১ সালে মোট লেনদেনের ১৪ থেকে ১৯ শতাংশ ছিল ডিজিটাল। কিন্তু ২০২৪ সালে এই হার বেড়ে ৪০ থেকে ৪৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক বছরেই ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
২০১৬ সালের নোটবন্দির ফলে মানুষ নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্টের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছিল। ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) সিস্টেমের চালু হওয়ায় ডিজিটাল লেনদেন খুব সহজ হয়ে পড়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংক্রমণের ভয়ে মানুষ নগদ লেনদেন এড়াতে শুরু করে। সরকার ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
কম মূল্যের লেনদেনে নগদই প্রধান:
যদিও ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে, তবে কম মূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন এখনও প্রধান। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত লেনদেনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ভবিষ্যতে কী হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়বে। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে এবং সরকারের উদ্যোগের ফলে ডিজিটাল লেনদেন আরও জনপ্রিয় হবে। তবে, নগদ লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করা হয় না। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নগদ লেনদেন এখনও বেশি হবে।
ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের যুগ এসেছে। নোটবন্দি, ইউপিআই এবং কোভিড-১৯ মহামারি এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী। ভবিষ্যতে ডিজিটাল লেনদেন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভারত একটি ক্যাশলেস ইকোনমি-র দিকে এগিয়ে যাবে।