পেজার ফাটিয়েই লেবাননে মৃত্যু মিছিল, আপনার পকেটের মোবাইলেও এরকম সম্ভব?

মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এবার অস্ত্র বা রকেট নয়, পকেটের মধ্যে ঘুরছে বিস্ফোরক। পেজার যেকোনো সময় দুমদাম করে ফাটছে, ফলে অনেকে প্রাণ হারাচ্ছে, অনেকে অঙ্গভঙ্গ হচ্ছে।
লেবাননে ধারাবাহিক পেজার বিস্ফোরণের ফলে এখন পর্যন্ত ৯ জন মারা গেছে এবং কমপক্ষে ২৮০০ জন আহত হয়েছে। এই হামলা মূলত হিজবুল্লা জঙ্গি সংগঠনকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে বলে মনে করা হয়, এবং হিজবুল্লা এই ঘটনার জন্য ইজরায়েলকে দায়ী করেছে।
পেজার ছিল একটি ছোট, বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হত। মোবাইল ফোনের আগমনের সাথে সাথে পেজারের ব্যবহার কমে গিয়েছিল। লিথিয়াম ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হলে বিস্ফোরিত হতে পারে, যেমন এবার পেজারগুলোতে ঘটেছে। হিজবুল্লা দাবি করে যে, ইজরায়েল পেজার হ্যাক করে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
পেজার কী?
পেজার ছিল একটি ছোট, বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা দিয়ে মূলত সংক্ষিপ্ত বার্তা বা জরুরি সংকেত পাঠানো হত। একটি বেস স্টেশন থেকে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে এই বার্তাগুলো পেজারে পৌঁছে যেত। পেজারে একটি ছোট পর্দা থাকত যেখানে বার্তাগুলো দেখানো হত। নতুন বার্তা আসলে পেজারটি শব্দ করত, যেমন আজকাল মোবাইল ফোনে মেসেজ আসলে শব্দ হয়। ১৯৯০-এর দশকের শেষ এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে পেজার খুব জনপ্রিয় ছিল।
লিথিয়াম ব্যাটারির ঝুঁকি
পেজারগুলোতে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত হত। এই ব্যাটারিগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ফেটে যেতে পারে। লিথিয়াম ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঝুঁকি সবসময় থাকে, যেমনটা পেজারগুলোতে ঘটেছে। এই ধরনের ব্যাটারি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইলেকট্রিক গাড়িতেও ব্যবহৃত হয়। লেবাননের সরকার আশঙ্কা করছে যে, পেজারের মতো অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রেও একই ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।