“টেন্ডার পাস থেকে শুরু করে দেহ পাচার”- সন্দীপ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ

সোমবার সন্ধ্যায় সিবিআই আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে। চিকিৎসক হত্যার ঘটনার পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তের পর সন্দীপের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি সরকারি অর্থের অপচয় করেছেন এবং অনিয়মিতভাবে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য বিক্রি করেছেন।

আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। আলির অভিযোগ অনুযায়ী, সন্দীপ ঘোষ হাসপাতালে ব্যাপক দুর্নীতি চালিয়েছেন।

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দুর্নীতির ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সঞ্জয় রায়: একজন সিভিক ভলান্টিয়ার, তিনি হাসপাতালে একজন চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার মূল অভিযুক্ত। সিবিআইয়ের কাছে তার বিরুদ্ধে ৫৩টিরও বেশি প্রমাণ রয়েছে।

সন্দীপ ঘোষ: হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, তিনি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেওয়ারিশ দেহ পাচার, বায়ো-মেডিকেল বর্জ্য দুর্নীতি, এবং নির্মাণের টেন্ডারে অনিয়মের মতো অভিযোগ রয়েছে।

বিপ্লব সিং: ‘মা তারা ট্রেডার্স’ নামে একটি সংস্থার মালিক। তিনি সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে মিলে হাসপাতালে পোস্টার-ব্যানার বানানো এবং ওষুধ সরবরাহের কাজ করতেন।

সুমন হাজরা: হাসপাতালে জিনিস সাপ্লায়ারের কাজ করতেন। সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ। তিনি সরকারি ওষুধ ও মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট বাজারে বিক্রি করতেন।

আফসার আলি খান: সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ। তিনি হাসপাতালের জৈব বর্জ্য বাংলাদেশে বিক্রি করতেন।

কলকাতা পুলিশ প্রথমে এই মামলাটি তদন্ত করেছিল এবং পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।