গঙ্গা নদীতে কুমির? লাটে উঠেছে গঙ্গাস্নান, আতঙ্ক ছড়িয়ে বিভিন্ন ঘাটে

একটি দুটি নয় ৩টি কুমির নাকি গঙ্গার জল থেকে মুখ তুলে হা করে ছিল! আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেড়েছে আতঙ্ক। তবে কলকাতা -হাওড়া তীরবর্তী গঙ্গায় যে প্রাণীটির দেখা মিলেছে তা আসলে ঘড়িয়াল না কুমির তাই নিয়েই চলছে জোর চর্চা। এমনকি গাঙ্ঘার ঘাটের এই আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে পুলিশ প্রশাসনেরও।
গত দুদিন ধরে এই খবর চাউর হয়ে যাওয়ার কারণে গঙ্গার ঘাটে পূর্ণাথীরা স্নান করতে পাচ্ছেন ভয়। এমনকি যারা সেই ঘাটে নিয়মিত সাঁতার কাটতে যান তারাও যাচ্ছেন না। মৎসজীবীরাও আতংকিত মন নিয়েই যাচ্ছেন মাছ ধরতে।
পেশায় সাঁতার প্রশিক্ষক ভোলা পালের কথায়, ‘আমি সকালের দিকে নিয়মিত গঙ্গায় সাঁতার কাটতে যাই। ঘাটে গিয়ে জানতে পারলাম, গঙ্গায় কুমির ভাসছে। সেটা শোনার পরে আর জলে নামার সাহস পাইনি। আহিরীটোলা ঘাটে আমার মতো প্রচুর মানুষ স্নান করতে আসেন। ভয়ে গত দু’দিন ধরে তাঁরা আর গঙ্গায় নামছেন না।’
গোলাবাড়ির বাসিন্দা অশোক সাউ বলেন, ‘আমরা রোজ দুপুরে গঙ্গায় স্নান করতে যাই। গতকালও গিয়েছিলাম। ঘাটে নামার আগে হঠাৎ কুমিরটা দেখতে পেয়ে ঘাবড়ে যাই। ভয়ে স্নান না করেই চলে আসি।’
রাজ্য বন দপ্তরের ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মনোজ যশ বলেন ‘সুন্দরবন থেকে নদীপথে কলকাতায় কুমির চলে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অতীতে ফারাক্কা এবং বর্ধমানের কালনার কাছে গঙ্গায় কুমির দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। তবে এটা সত্যি কুমির কি না, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। সে জন্য আমরা আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে খোঁজখবর নিচ্ছি। সত্যিকারের কুমির হলে সেটা চিন্তার বিষয়। কারণ, আমাদের কাছে কুমির ধরার মতো কোনও সরঞ্জাম নেই। সেক্ষেত্রে সুন্দরবন ডিভিশন থেকে এক্সপার্টদের ডেকে আনতে হবে।’
বন দপ্তরের সচিব বিবেক কুমারের বক্তব্য, ‘কলকাতার গঙ্গায় কুমির রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনও কনফার্ম খবর নেই। তবে গত দু’তিন দিন ধরে একটা ঘড়িয়ালকে হুগলির ভদ্রেশ্বর এবং কলকাতার আশপাশে গঙ্গায় ঘুরতে দেখা গিয়েছে। পুলিশের থেকে খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের রেঞ্জ অফিসাররা ইনস্পেকশন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। ঘড়িয়াল খুব একটা বিপজ্জনক নয়। এরা মূলত নদীর মাছ খায়। একমাত্র ভয় পেলে তবেই তারা মানুষকে আক্রমণ করে।’